
নিজস্ব প্রতিবেদক | নওগাঁ
দৈনিক আশুলিয়া
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নওগাঁ জেলায় জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। ভোটগ্রহণের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই গণসংযোগ ও প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নেতাকর্মীরা। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্র ভোটারদের কাছে গিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন প্রার্থীরা এবং দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি।
রবিবার সকাল থেকে দিনভর জেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচার চালান প্রার্থীরা। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চাওয়া-পাওয়া জানার পাশাপাশি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তারা। কে সংসদে যাবেন তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একাধিক দল নির্বাচনে অংশ নিলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে। ভোটাররা আশা করছেন অতীতের মতো সহিংসতা ছাড়াই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
মহাদেবপুর উপজেলার জন্তি গ্রামের প্রবীণ ভোটার আশরাফ হোসেন বলেন,
“আগে অনেক সময় ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে পারিনি। এবার পরিবেশ ভালো থাকলে ভোট দিতে যাব। তবে এখনো কিছুটা শঙ্কা রয়েছে।”
মান্দা উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের জুয়েল রানা বলেন,
“ভোটের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু পরে তা বাস্তবায়ন হয় না। আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব উন্নয়ন চাই। কৃষি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।”
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন,
“উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে মানুষের কাছে যেতে পেরেছিলাম। এই অঞ্চল উন্নয়নে পিছিয়ে আছে। ভোটাররা আমাকে বিজয়ী করবেন বলে আশাবাদী।”
একই আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার মো. আব্দুর রাকিব বলেন,
“সব কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। নির্বাচিত হলে শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করব।”
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন,
“মানুষ দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে আগ্রহী। কৃষিপ্রধান জেলায় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ফল সংরক্ষণাগার, গ্যাস ও সড়ক উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
অন্যদিকে একই আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আ.স.ম সায়েম বলেন,
“ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে বলে আশা করছি। নির্বাচিত হলে কৃষি উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে আমাদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে।”
জেলায় বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা না ঘটলেও কয়েকজন প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচারণায় বাধা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন দলের মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলার ৭৮২টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলে এবারের নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ এস এম নজরুল ইসলাম অফিসঃ ৫৬/৫৭ শরীফ ম্যানশন(৪র্থ তলা) মতিঝিল কমার্সিয়াল এলাকা,ঢাকা-১০০০ মোবাইলঃ ০১৭১৪-৩৪০৪১৭ ইমেইলঃ kazialamin577@gmail@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আশুলিয়া. All rights reserved.