
নিজস্ব প্রতিবেদক | কক্সবাজার
দৈনিক আশুলিয়া
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা ও টেকনাফ উপজেলার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি গড়ে তোলার অভিযোগে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। অভিযানে উখিয়ার বালুখালী এলাকা থেকে প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে।
এ সময় বসতি ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে সাতজন মালিকের মধ্যে পাঁচজনকে অর্থদণ্ড এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগে দুইজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উখিয়ার বালুখালীর মরাগাছতলা এলাকায় পাহাড় কেটে প্রায় সাড়ে তিনশো অবৈধ বসতি নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে হাজারো রোহিঙ্গা বসবাস করছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট এসব বসতিতে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে জনপ্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা ভাড়া আদায় করতো। পাশাপাশি ওই এলাকায় মাদক ব্যবসাও চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
রবিবার সকাল ৬টা থেকে মরাগাছতলা এলাকা ঘিরে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। তল্লাশি শুরু হলে শত শত রোহিঙ্গা বসতি থেকে বেরিয়ে আসে। অনেকেই তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সাড়ে তিনশো বসতি থেকে প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়।
অভিযান বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান জানান,
অবৈধ বসতি নির্মাণ ও ভাড়া বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আটক রোহিঙ্গাদের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন-এর মাধ্যমে পুনরায় নিবন্ধিত ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে।
কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলোক বিশ্বাস জানান,
আটক রোহিঙ্গারা নিবন্ধিত নাকি নতুন অনুপ্রবেশকারী, তা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে ১৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। গত আট বছরে কাউকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন,
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কেউ নিবন্ধিত নয়। তারা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে প্রায় এক বছর ধরে পালংখালী ইউনিয়নে বন বিভাগের জমিতে বসবাস করছিল।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের দোহাজারি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করেছিল যৌথবাহিনী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধ বসতি উচ্ছেদ ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ এস এম নজরুল ইসলাম অফিসঃ ৫৬/৫৭ শরীফ ম্যানশন(৪র্থ তলা) মতিঝিল কমার্সিয়াল এলাকা,ঢাকা-১০০০ মোবাইলঃ ০১৭১৪-৩৪০৪১৭ ইমেইলঃ kazialamin577@gmail@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আশুলিয়া. All rights reserved.