
ধর্ম ও জীবন ডেস্ক
দৈনিক আশুলিয়া
আমাদের সবার ঘরেই কলিংবেল বা দরজায় কড়া নাড়ার ব্যবস্থা থাকে। কেউ যখন ঘরে প্রবেশ করতে চায়, তখন সে কলিংবেল বাজায় বা দরজায় কড়া নাড়ে। ঘরের ভেতরে থাকা মানুষ বুঝতে পারে বাইরে কেউ এসেছে এবং দরজা খোলার প্রয়োজন রয়েছে। তবে দরজা খোলার ক্ষেত্রে মানুষের আচরণ ভিন্ন হয়ে থাকে। পরিচিত কেউ এলে আগ্রহ নিয়ে দরজা খোলা হয়, আর অপরিচিত বা অপ্রত্যাশিত কেউ এলে অনেক সময় অনীহা দেখা যায়।
এ বিষয়টি সবচেয়ে ভালো বোঝা যায় ছোট শিশুদের আচরণে। শিশুরা সারাদিন খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকলেও দরজার শব্দ শুনলেই চঞ্চল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট সময়ে বাবার ফেরার শব্দ শুনলে আনন্দে ছুটে যায় দরজার দিকে। যদিও সে দরজা খুলতে পারে না, তবুও দরজার হাতল বা ছিটকিনি ধরার চেষ্টা করে। পরিচিত সময় ও পরিচিত শব্দ তাদের মধ্যে আনন্দ ও প্রত্যাশার অনুভূতি তৈরি করে।
এভাবেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সময় আমাদের জীবনের দরজায় কড়া নাড়ছে—মহিমান্বিত রমজান মাস। সময়ের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বরকতময় মাসের জন্য যারা হৃদয়ের কান খোলা রাখেন, তারা অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, আল্লাহভীরু মানুষ রজব মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি শুরু করেন এবং শাবান মাসে নিজেদের ইবাদত-বন্দেগিতে আরও মনোযোগী হয়ে ওঠেন। ফলে রমজান আগমনের সঙ্গে সঙ্গে তারা আনন্দ ও আগ্রহের সঙ্গে ইবাদত, দান-সদকা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মাসটিকে বরণ করে নেন।
কিন্তু সমাজের একটি বড় অংশ এখনও গুনাহ ও অসততায় নিমজ্জিত। অনেকেই রমজানের আগমনী বার্তা অনুভব করতে পারেন না। বরং কেউ কেউ অনাগ্রহ কিংবা অবহেলার মাধ্যমে এই পবিত্র সময়কে অগ্রাহ্য করেন। ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, এভাবে অবহেলা করলে রমজানের বরকত থেকে মানুষ বঞ্চিত হয় এবং আত্মিক অন্ধকার আরও বৃদ্ধি পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজানের প্রস্তুতি শুধু ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি নৈতিকতা ও সততার পরীক্ষাও। অথচ প্রতি বছর রমজানকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, খাদ্যে ভেজাল, মজুতদারি ও অসাধু ব্যবসার অভিযোগ উঠে আসে। অনেক ব্যবসায়ী রমজানে অধিক মুনাফার আশায় দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল বা নিম্নমানের পণ্য মজুত রাখেন—যা ইসলামের নৈতিক শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রমজানকে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ হিসেবে দেখা হয়। অথচ আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রে রমজানকে কেন্দ্র করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়। তারা মনে করেন, এসব কর্মকাণ্ড শুধু সামাজিক অপরাধ নয়, বরং ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়েরও বহিঃপ্রকাশ।
ধর্মীয় চিন্তাবিদরা বলেন, মানুষের লোভ ও অন্যায় একসময় তার জন্য কঠিন শাস্তির কারণ হতে পারে। তাই রমজানকে সামনে রেখে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত আত্মসমালোচনা করা, অন্যায় থেকে ফিরে আসা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।
তাদের মতে, রমজান হতে পারে আত্মশুদ্ধি, নৈতিক উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের একটি সুবর্ণ সুযোগ। তাই এবারের রমজানকে সামনে রেখে আত্মশুদ্ধি ও কল্যাণমুখী জীবন গড়ে তোলাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ এস এম নজরুল ইসলাম অফিসঃ ৫৬/৫৭ শরীফ ম্যানশন(৪র্থ তলা) মতিঝিল কমার্সিয়াল এলাকা,ঢাকা-১০০০ মোবাইলঃ ০১৭১৪-৩৪০৪১৭ ইমেইলঃ kazialamin577@gmail@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আশুলিয়া. All rights reserved.