
রাজনীতি ডেস্ক
দৈনিক আশুলিয়া
রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। এখন ভোটের ফল ঘরে তুলতে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলো। এ পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে ‘পাতানো নির্বাচন’ হলে সেই ফলাফল দলটি মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে দলটির নেতারা।
জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, দলটির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট দেশের ৩০০টি আসনে নির্বাচন করছে। এই জোটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন ইসলামপন্থি ও ডানপন্থি দল রয়েছে।
জোট সূত্র জানায়, মোট আসনের মধ্যে ২১৫টি আসনে বিএনপি জোটের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে জামায়াতে ইসলামী। বাকি ৮৫টি আসন শরিক দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। এর মধ্যে এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২২টি, খেলাফত মজলিস ১২টি, এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৩টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি এবং বিডিপি ২টি আসনে নির্বাচন করছে। তবে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও লেবার পার্টি কোনো আসন না পেলেও জোটে রয়েছে।
জোটের নেতারা দাবি করেছেন, গত ২০ দিনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ৪৮টি জেলা সফর করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। এসব এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছেন বলেও জানান তারা।
তাদের ভাষ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু হলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব হবে। তবে কিছু আসনে সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু কেন্দ্রে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং পুলিশের বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরাও কিছু এলাকায় কমানো হয়েছে।
জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। প্রশাসনের একটি অংশ নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে কাজ করছে বলেও তাদের দাবি। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
দলটির নেতারা আরও জানান, নির্বাচনের আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। তাদের দাবি, এখন পর্যন্ত জামায়াতের অন্তত ১৫টি নির্বাচনী অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পেরে হতাশ হয়েছে। এবারের নির্বাচন মানুষের বড় প্রত্যাশার জায়গা। আমরা তরুণ ও নারী ভোটারসহ সব শ্রেণির মানুষের সমর্থন পাচ্ছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হামলা ও ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। একটি পক্ষ নির্বাচন বানচাল করতে চেষ্টা করছে এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা আশা করছি।”
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জনমনে আতঙ্ক দূর করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
পাতানো নির্বাচনের আশঙ্কা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যদি কোনোভাবে সাজানো নির্বাচন করার চেষ্টা করা হয়, তবে সেই ফলাফল জামায়াতে ইসলামী মেনে নেবে না।”
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ এস এম নজরুল ইসলাম অফিসঃ ৫৬/৫৭ শরীফ ম্যানশন(৪র্থ তলা) মতিঝিল কমার্সিয়াল এলাকা,ঢাকা-১০০০ মোবাইলঃ ০১৭১৪-৩৪০৪১৭ ইমেইলঃ kazialamin577@gmail@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আশুলিয়া. All rights reserved.