হেলাল শেখঃ ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সকালে ১০টার পর থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইন, আবার কোথাও মাঝারি উপস্থিতি-সব মিলিয়ে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র। এখন সবার নজর ফলাফলের দিকে-বিজয়ের মুকুট উঠবে কার হাতে, বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবু, নাকি ১১দলীয় জোটসমর্থিত প্রার্থী দিলসানা পারুলের?
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণে সাভার পৌরসভা, আশুলিয়া, বিরুলিয়া ও শিমুলিয়া, ইয়ারপুর,ধামসোনা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার ভোটার রোকেয়া বেগম বলেন, “আমরা চাই উন্নয়ন আর নিরাপত্তা। যে এগুলো নিশ্চিত করতে পারবে, তাকেই ভোট দিয়েছি।” তবে কাকে ভোট দিয়েছেন-তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
ঢাকা-১৯ এর ৮জন এমপি পদপ্রার্থী ছিলো, তার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় ছিলেন। ডা. দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন তাঁর ধানের শীষের প্রচারণায় উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। ভোট শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে এসেছেন। আমি আশাবাদী, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবেন।” তাঁর সমর্থকদের দাবি, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এবং সাভারের তরুণ ভোটাররা তাঁদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।
অন্যদিকে ১১ দলের মনোনীত শাপলা কলি দিলসানা পারুল তাঁর প্রচারণায় নারী নেতৃত্ব, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থানীয় সমস্যার সমাধানকে গুরুত্ব দেন। ভোট শেষে তিনি বলেন, “মানুষ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চায়। আমি বিশ্বাস করি, তারা সেই আস্থাই প্রকাশ করেছেন।” তাঁর সমর্থকদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় এবং নারী ভোটারদের মধ্যে পারুলের অবস্থান শক্ত।
ভোটের দিন বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকটি কেন্দ্রে ধীরগতির ভোটগ্রহণ নিয়ে সাময়িক অসন্তোষ দেখা দেয়। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল চোখে পড়ার মতো ছিলো।
সাভার বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, “আমরা চাই ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ ভালো থাকুক। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার। এবার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে।” একই সুর শোনা যায় আশুলিয়ার এক গার্মেন্টস কর্মী শামসুন্নাহার ও সাথী'র কণ্ঠেও। তারা বলেন, “আমাদের মজুরি, বাসাভাড়া, যাতায়াত-এসব সমস্যা নিয়ে যে কথা বলেছে, তাকেই ভোট দিয়েছি।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকা-১৯ আসনে ফল নির্ধারণে শিল্পাঞ্চলের ভোট বড় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। গত কয়েক বছরে এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও যানজট, মাদক ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অসন্তোষ ছিলো জনমনে। যে প্রার্থী এসব ইস্যুতে বেশি আস্থা জাগাতে পেরেছেন, তিনিই এগিয়ে আছেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আশুলিয়া সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম জয় মন্তব্য করেন ও জরিপ করে বলেন, এবং নিউজে প্রকাশ করেছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের এমপি পদপ্রার্থী ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবু জনমতে এগিয়ে আছেন। তিনিই বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
ভোটের হার কেমন হয়েছে-তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে ধারণা করা হচ্ছে, সন্তোষজনক উপস্থিতি ছিলো। উভয়ই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। ডা. সালাউদ্দিন বাবুর সমর্থকদের মতে,পরিবর্তনের বার্তা স্পষ্ট। আর দিলসানা পারুলের শিবির বলছে, নীরব ভোটাররাই তাঁদের চমক দেখাবে। এখন শুরু হচ্ছে গণনার পালা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রে কেন্দ্রে গণনা শেষে দ্রুত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হবে কার হাতে উঠছে সাভার-আশুলিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ আসনের বিজয়ের মুকুট।
সাভার-আশুলিয়ার মানুষ অপেক্ষায়-নতুন নেতৃত্ব কি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে, নাকি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে? সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে ফলাফল ঘোষণার পরই। ততক্ষণ পর্যন্ত উত্তেজনা আর জল্পনা-কল্পনাই ভর করে থাকবে পুরো সাভার আশুলিয়াবাসী প্রায় সাড়ে ৭ লাখ ভোটার ও এই এলাকার বসবাসকারী জনগণ।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ এস এম নজরুল ইসলাম অফিসঃ ৫৬/৫৭ শরীফ ম্যানশন(৪র্থ তলা) মতিঝিল কমার্সিয়াল এলাকা,ঢাকা-১০০০ মোবাইলঃ ০১৭১৪-৩৪০৪১৭ ইমেইলঃ kazialamin577@gmail@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আশুলিয়া. All rights reserved.