
নিজস্ব প্রতিবেদক | মোঃ আল আমিন কাজী
দৈনিক আশুলিয়া
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় দেশে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে অনেক ভোক্তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জ্বালানি তেল কিনতে ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জ্বালানি তেল সরবরাহে সাময়িক সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
শুক্রবার বিপিসির জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে ১০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি তেল দেওয়া হবে।
এছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাস দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল নিতে পারবে। পিকআপ বা লোকাল বাসের জন্য দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার ট্রাক দিনে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত তেল নিতে পারবে।
বিপিসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকটের কারণে কখনো কখনো জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রম বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত হয়। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের মজুত নিয়ে নেতিবাচক প্রচারের ফলে ভোক্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এতে ডিলাররা আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ জ্বালানি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে কিছু ভোক্তা ও ডিলার প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বিপিসি জানিয়েছে, জনগণের আতঙ্ক দূর করতে নিয়মিতভাবে বিদেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করা হচ্ছে এবং দেশের বিভিন্ন ডিপোতে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে পর্যাপ্ত বাফার স্টক গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রসিদ দেখিয়ে তেল সংগ্রহ
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার সময় ভোক্তাদের তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করা রসিদ নিতে হবে। পরবর্তী সময়ে তেল কেনার সময় আগের রসিদ প্রদর্শন করতে হবে। ডিলাররাও বরাদ্দ ও রসিদের ভিত্তিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করবেন।
ফিলিং স্টেশনগুলোকে নিয়মিতভাবে জ্বালানি তেলের মজুত ও বিক্রির তথ্য ডিপোতে জানাতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই বরাদ্দের চেয়ে বেশি তেল দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিলিং স্টেশনে উপচেপড়া ভিড়
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে শুক্রবার ছুটির দিনেও উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরীবাগ এলাকার মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল হয়ে শাহবাগ মেট্রোরেলের নিচ পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কয়েকজন মোটরসাইকেল চালকের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়। এ সময় ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত শেষ হয়ে যায়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ এস এম নজরুল ইসলাম অফিসঃ ৫৬/৫৭ শরীফ ম্যানশন(৪র্থ তলা) মতিঝিল কমার্সিয়াল এলাকা,ঢাকা-১০০০ মোবাইলঃ ০১৭১৪-৩৪০৪১৭ ইমেইলঃ kazialamin577@gmail@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আশুলিয়া. All rights reserved.