দৈনিক আশুলিয়া
প্রতিবেদক: মোঃ আল আমিন কাজী
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে মব সন্ত্রাস বা গণপিটুনির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এসব ঘটনায় নিরপরাধ মানুষও হামলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ।
গত ৩১ অক্টোবর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সদরঘাট এলাকায় মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিহত হন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটি) ইলেকট্রিশিয়ান আনোয়ার হোসেন বাবু। নিহতের মা দিলরুবা আক্তার বলেন, “আমার পোলাতো চোর আছিল না। রাস্তা থাইক্যা ধইরা ওরা পোলাডারে পিডাইয়া মারছে। আমি এর বিচার চাই।” তিনি সন্তান হত্যার বিচার দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশও জানতে পেরেছে আনোয়ার হোসেন চোর ছিলেন না। তবে মামলার পরও বেশির ভাগ অভিযুক্ত এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
এরই মধ্যে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারের স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে এক ক্রেতাকে ঘিরে মারধরের ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত শনিবার ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এ ধরনের ঘটনা এখন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব নেওয়ার পর মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেও দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন কৌশলে এসব ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর জরিপ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৮ মাসে দেশে মব সন্ত্রাসে নিহত হয়েছেন ৩০৮ জন। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ১২৮ জন, ২০২৫ সালে ১৯৮ জন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ১৪ জন নিহত হন। একই সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর ২১১টি মব সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে ৪৮৭টি বাড়িঘরে হামলা, ৮৮টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ১১৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং ৪৭টি মন্দির-মঠ ও ১৯৪টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে গণপিটুনির মতো ঘটনা বাড়ে। এটি আইন ও সামাজিক রীতি বহির্ভূত সহিংসতা। অনেক সময় ব্যক্তিগত শত্রুতা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে হত্যা করার সুযোগ হিসেবেও মবকে ব্যবহার করা হয়।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মো. সাইদুর রহমান মনে করেন, পরিকল্পিত উসকানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা—এসব কারণেও গণপিটুনির ঘটনা বাড়ছে।
র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল ইফতেখার আহমেদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কেউ মব সন্ত্রাস ঘটানোর চেষ্টা করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নুরুল হুদা বলেন, মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে কাউকে হত্যা করা আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। যারা আইন নিজের হাতে তুলে নেয় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি, দ্রুত তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে মব সন্ত্রাসের মতো সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ এস এম নজরুল ইসলাম অফিসঃ ৫৬/৫৭ শরীফ ম্যানশন(৪র্থ তলা) মতিঝিল কমার্সিয়াল এলাকা,ঢাকা-১০০০ মোবাইলঃ ০১৭১৪-৩৪০৪১৭ ইমেইলঃ kazialamin577@gmail@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আশুলিয়া. All rights reserved.