
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে পরিচালিত যৌথ অভিযানে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযানে এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কেউ গ্রেপ্তার হয়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযোগ উঠেছে, আগেই অভিযানের খবর পেয়ে বড় সন্ত্রাসীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
সোমবার পরিচালিত অভিযানের বিষয়ে মঙ্গলবার নগরের খুলশী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ।
তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের বিষয়ে পুলিশের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে। তবে পাহাড়ি দুর্গম এলাকা হওয়ায় অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ওই এলাকায় সন্ত্রাসীদের অবস্থান দীর্ঘদিন টিকতে দেওয়া হবে না।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) নাজমুল হাসান বলেন, সন্ত্রাসীরা পুরো এলাকায় নজরদারি চালাতে বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। এছাড়া তাদের রয়েছে বহুস্তরের তথ্যদাতা বা সোর্স নেটওয়ার্ক। প্রশাসনের গতিবিধি সম্পর্কে আগাম তথ্য পেয়ে তারা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে। এই নেটওয়ার্ক ভাঙতে কাজ করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর পাহাড়ি এলাকায় বিস্তৃত জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। ওই এলাকায় প্রায় ২৫টি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে সাতটি গ্রুপ এলাকার অধিকাংশ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে নিজেদের লোক বসিয়ে রাখে। প্রশাসনের গতিবিধি দেখলেই তারা খবর পৌঁছে দেয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরেও তাদের কিছু তথ্যদাতা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পাহাড়ি দুর্গম পরিবেশের সুযোগ নিয়ে ওই এলাকায় দেশি অস্ত্র তৈরির কারখানাও গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের মাদক ব্যবসার একটি অংশও সেখান থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় বলে জানা গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধ সংঘটনের পর অনেক অপরাধী গ্রেপ্তার এড়াতে এই এলাকায় আত্মগোপন করে।
ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ জানান, অভিযানে ৩০টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে দেশি পিস্তল, এলজি, ২৭টি দেশি তৈরি পাইপগান, তিনটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, অস্ত্র তৈরির ২৭টি পাইপ, ৬১টি কার্তুজ এবং প্রায় ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি।
এ ছাড়া ১১টি ককটেল, ১৮টি হেক্সোব্লেড এবং হাতুড়ি, প্লাস, রেঞ্চ, ড্রিল মেশিনসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন আস্তানা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, পাহাড়ি পথ ও গোপন স্থাপনায় তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
—নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ এস এম নজরুল ইসলাম অফিসঃ ৫৬/৫৭ শরীফ ম্যানশন(৪র্থ তলা) মতিঝিল কমার্সিয়াল এলাকা,ঢাকা-১০০০ মোবাইলঃ ০১৭১৪-৩৪০৪১৭ ইমেইলঃ kazialamin577@gmail@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আশুলিয়া. All rights reserved.