
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইরানের সামরিক কমান্ড সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বুধবার পারস্য উপসাগরে আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর এ সতর্কবার্তা দেয় তেহরান।
ইরানের সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে বলেন, “তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। জ্বালানির দাম আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করে, আর আপনারাই সেই নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করেছেন।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে ব্যবসা করা ব্যাংকগুলোকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এসব ব্যাংকের আশপাশে সাধারণ মানুষকে অন্তত এক হাজার মিটার দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যে হামলা চালিয়েছে তা এ যাবৎকালের সবচেয়ে তীব্র অভিযানগুলোর একটি। এর জবাবে বুধবার ইরান ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়, যদিও সপ্তাহের শুরুতে কিছুটা কমে আসে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারেও কিছুটা স্থিতি ফিরে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নিতে পারেন—এমন প্রত্যাশা থেকে বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছিল।
তবে বাস্তবে সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থির। ফলে পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বুধবার অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর আঘাতে পারস্য উপসাগরে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত মোট ১৪টি জাহাজ এ ধরনের হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বৈশ্বিক কৌশলগত মজুত থেকে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ের সুপারিশ বিবেচনা করছে। তবে এটি বাস্তবায়নে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে।
—আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ এস এম নজরুল ইসলাম অফিসঃ ৫৬/৫৭ শরীফ ম্যানশন(৪র্থ তলা) মতিঝিল কমার্সিয়াল এলাকা,ঢাকা-১০০০ মোবাইলঃ ০১৭১৪-৩৪০৪১৭ ইমেইলঃ kazialamin577@gmail@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আশুলিয়া. All rights reserved.