
স্বাস্থ্য ও সমাজ ডেস্ক:
বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ৮ মার্চ পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিনটি নারীদের অধিকার, অর্জন ও সম্ভাবনাকে স্মরণ করার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সচেতনতার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে ভাবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে নারীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নারী দিবসকে কেন্দ্র করে নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আনা প্রয়োজন।
সমাজে নারীরা পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও অনেক সময় নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকেন। পরিবারের দায়িত্ব, সন্তান লালন-পালন কিংবা কর্মব্যস্ততার কারণে অনেক নারী নিজের শারীরিক সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দেন না। ফলে ছোটখাটো অসুস্থতা ধীরে ধীরে জটিল রোগে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রথম এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন হওয়া। শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ব্যথা বা অসুস্থতাকে অবহেলা করা উচিত নয়। লজ্জা বা সামাজিক সংকোচের কারণে অনেক নারী ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। বিশেষ করে প্রজনন স্বাস্থ্য, মাসিক সংক্রান্ত সমস্যা বা যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে অনেকেই খোলামেলা আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। অথচ সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এসব সমস্যা জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
নারীদের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রজনন স্বাস্থ্য, স্তন স্বাস্থ্য এবং সার্বিক শারীরিক সুস্থতার জন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া যায়।
এছাড়া পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ নারীদের সুস্থ থাকার জন্য অপরিহার্য। অনেক সময় দেখা যায়, পরিবারের অন্য সদস্যদের যত্ন নিলেও অনেক নারী নিজের পুষ্টির বিষয়টি অবহেলা করেন। ফলে অপুষ্টি, রক্তস্বল্পতা ও শারীরিক দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন।
মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও নারীদের সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পারিবারিক দায়িত্ব, কর্মক্ষেত্রের চাপ বা সামাজিক নানা সমস্যার কারণে অনেক নারী মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু সমাজে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি এখনও অনেকটাই উপেক্ষিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে এমন পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে পারেন।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সঠিক তথ্য সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দিলে অনেক ভুল ধারণা দূর করা সম্ভব।
একজন সচেতন নারী শুধু নিজের সুস্থতাই নিশ্চিত করেন না, বরং পুরো পরিবার ও সমাজের সুস্থতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই নারী দিবসের এই সময়ে নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতার বিষয়ে নতুন করে অঙ্গীকার নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, একটি সুস্থ নারী মানেই একটি সুস্থ পরিবার, আর একটি সুস্থ পরিবারই একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার ভিত্তি। তাই নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র—সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
—স্বাস্থ্য ও সমাজ ডেস্ক
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ এস এম নজরুল ইসলাম অফিসঃ ৫৬/৫৭ শরীফ ম্যানশন(৪র্থ তলা) মতিঝিল কমার্সিয়াল এলাকা,ঢাকা-১০০০ মোবাইলঃ ০১৭১৪-৩৪০৪১৭ ইমেইলঃ kazialamin577@gmail@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আশুলিয়া. All rights reserved.