
ধর্ম ডেস্ক:
ইসলামে ‘সদকাতুল ফিতর’ একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। মাহে রমজানের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতরের আনন্দ যেন সমাজের সব শ্রেণির মানুষ—বিশেষ করে দরিদ্র ও দুস্থরা—সমানভাবে উপভোগ করতে পারে, সে জন্যই এই সদকা ওয়াজিব করা হয়েছে। ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি শুধু দান নয়; বরং রোজাদারের রোজার ত্রুটিবিচ্যুতি পরিশুদ্ধ করার একটি মাধ্যম এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশেরও একটি ইবাদত।
ধর্মবিশেষজ্ঞরা জানান, সদকাতুল ফিতর সমাজে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। এর মাধ্যমে সমাজের অভাবী মানুষও ঈদের আনন্দে অংশ নিতে পারে।
প্রবাসীদের ফিতরা আদায়ের বিধান
বর্তমানে অনেক প্রবাসী বিদেশে অবস্থান করে দেশে ফিতরা আদায় করতে চান। ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ফিতরা আদায়কারী ব্যক্তি যেখানে অবস্থান করবেন, সেখানকার দ্রব্যমূল্য অনুযায়ী ফিতরা হিসাব করতে হবে। অর্থাৎ কেউ যদি সৌদি আরবে অবস্থান করেন এবং বাংলাদেশে ফিতরা পাঠাতে চান, তবে তাকে সৌদি আরবের ফিতরার হার অনুযায়ী অর্থ পাঠাতে হবে।
তবে প্রবাসীর স্ত্রী বা প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান যদি দেশে থাকেন, তাদের ফিতরা দেশের বাজারমূল্য অনুযায়ী আদায় করা যেতে পারে।
চাল দিয়ে ফিতরা আদায়ের নিয়ম
আমাদের দেশে চাল প্রধান খাদ্য হওয়ায় অনেকে চাল দিয়ে ফিতরা দিতে চান। তবে হাদিস শরিফে গম, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনির—এই পাঁচটি দ্রব্যের কথা উল্লেখ রয়েছে। গম দ্বারা ফিতরা আদায় করলে আধা ‘সা’ এবং অন্য চারটি দ্রব্য দ্বারা এক ‘সা’ পরিমাণ দিতে হয়।
কেউ যদি চাল দিয়ে ফিতরা দিতে চান, তবে উল্লিখিত দ্রব্যগুলোর মূল্যের সমপরিমাণ চাল দিতে হবে।
মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায়ের বৈধতা
ইসলামী ফিকহের অনেক আলেমের মতে, খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে সমমূল্যের টাকা দিয়েও ফিতরা আদায় করা বৈধ। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈদের আমলেও এর দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। বর্তমান যুগে দরিদ্রদের প্রয়োজন মেটাতে নগদ অর্থ অনেক সময় বেশি কার্যকর হওয়ায় অনেক ফকিহ এটিকে উত্তম মনে করেন।
সামর্থ্য অনুযায়ী ফিতরা প্রদান
ধর্মবিশেষজ্ঞরা বলেন, যার সামর্থ্য আছে তার উচিত উচ্চমূল্যের দ্রব্য—যেমন খেজুর, কিশমিশ বা পনিরের মূল্য অনুযায়ী ফিতরা আদায় করা। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সর্বনিম্ন হার অনুযায়ী ফিতরা দেওয়া তাকওয়ার পরিপন্থী।
ফিতরা আদায়ের সময়
সদকাতুল ফিতর আদায়ের উত্তম সময় হলো ঈদের দিন ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে। তবে রমজানের শেষ দিকে বা ঈদের কয়েক দিন আগেও তা দেওয়া যেতে পারে, যাতে দরিদ্ররা ঈদের প্রস্তুতি নিতে পারেন।
ফিতরা কাদের দেওয়া যাবে
ফিতরা শুধুমাত্র দরিদ্র মুসলমানদের দেওয়া যাবে। আত্মীয়স্বজনের মধ্যে যারা অভাবী—যেমন ভাই, বোন, চাচা বা ফুফু—তাদের দেওয়া উত্তম। তবে পিতা-মাতা, সন্তান কিংবা স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ফিতরা দিতে পারবেন না।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ফিতরার অর্থ সরাসরি দরিদ্রের মালিকানায় পৌঁছানো জরুরি। তাই মসজিদ নির্মাণ বা জনকল্যাণমূলক কাজে ফিতরার অর্থ ব্যয় করলে তা ফিতরা হিসেবে আদায় হবে না।
ধর্মবিশেষজ্ঞদের মতে, সদকাতুল ফিতর মানুষের ইবাদতের ত্রুটি মোচন করে এবং সমাজে সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচারের পরিবেশ তৈরি করে। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত সঠিক নিয়ম জেনে বিশুদ্ধ নিয়তে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী এই ওয়াজিব ইবাদত আদায় করা।
—ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ এস এম নজরুল ইসলাম অফিসঃ ৫৬/৫৭ শরীফ ম্যানশন(৪র্থ তলা) মতিঝিল কমার্সিয়াল এলাকা,ঢাকা-১০০০ মোবাইলঃ ০১৭১৪-৩৪০৪১৭ ইমেইলঃ kazialamin577@gmail@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আশুলিয়া. All rights reserved.