
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ বা রুকনের মধ্যে জাকাত তৃতীয়। মুসলমানের জীবনযাত্রায় সম্পদের সঠিক ব্যবহার, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য এবং সমাজে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জাকাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী জাকাত যথাযথভাবে আদায় ও বণ্টন করা হলে সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য অনেকাংশে দূর করা সম্ভব।
ইসলামে জাকাত শুধু আর্থিক ইবাদত নয়, বরং এটি সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা জাকাত প্রদানের মাধ্যমে সম্পদে বরকত বৃদ্ধি করেন এবং দানকারীর জন্য নেকি বাড়িয়ে দেন।
রমজান মাসে জাকাত আদায়ের গুরুত্ব আরও বেশি বলে উল্লেখ করেন ইসলামি চিন্তাবিদরা। কারণ এ মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। একটি ফরজ ইবাদতের সওয়াব ৭০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং একটি নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজের সমপরিমাণ হতে পারে।
পবিত্র কোরআনে জাকাত প্রদানের ব্যাপারে বহুবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুরা বাকারার ৪৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা যথাযথভাবে সালাত আদায় করো, জাকাত প্রদান কর এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু কর।” একই সুরার ১১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত দাও। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য আগে পাঠাবে, তা আল্লাহর নিকট পাবে।”
সুরা নূরের ৫৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত দাও এবং রাসুলের আনুগত্য করো, যাতে তোমরা দয়া লাভ করতে পারো।” এছাড়া সুরা তওবার ১০৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ কর, যার মাধ্যমে তুমি তাদের পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে।”
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী সুস্থ মস্তিষ্কের, স্বাধীন ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন এবং সেই সম্পদের ওপর এক বছর অতিবাহিত হয়, তাহলে তার ওপর জাকাত ফরজ হয়ে যায়। তবে নাবালক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির ওপর জাকাত ফরজ নয়।
সব ধরনের সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ হয় না। সাধারণত সোনা, রুপা, নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক পণ্য এবং নির্দিষ্ট ধরনের সম্পদের ওপর জাকাত দিতে হয়। ব্যবহৃত বা অব্যবহৃত—সোনা-রুপার অলংকারের ওপর জাকাত ফরজ হয় বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া ব্যাংক ব্যালান্স, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড কিংবা সঞ্চিত অর্থের ওপরও জাকাত দিতে হয়। ব্যবসার উদ্দেশ্যে রাখা পণ্য, জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি বা অন্যান্য সম্পদও বাণিজ্যিক সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়ে জাকাতের আওতায় পড়ে।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী স্বর্ণ সাড়ে সাত ভরি বা রুপা সাড়ে বায়ান্ন তোলা সমপরিমাণ সম্পদের মালিক হলে এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর সেই সম্পদের ওপর শতকরা আড়াই শতাংশ হারে জাকাত প্রদান করা ফরজ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাকাতের সঠিক আদায় ও বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে সমাজে দারিদ্র্য অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা পাবে।
—নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ এস এম নজরুল ইসলাম অফিসঃ ৫৬/৫৭ শরীফ ম্যানশন(৪র্থ তলা) মতিঝিল কমার্সিয়াল এলাকা,ঢাকা-১০০০ মোবাইলঃ ০১৭১৪-৩৪০৪১৭ ইমেইলঃ kazialamin577@gmail@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আশুলিয়া. All rights reserved.