ChatGPT said:
দৈনিক আশুলিয়া
সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হলো তাওবা—অর্থাৎ আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণভাবে আল্লাহ যেসব কাজ পছন্দ করেন তা গ্রহণ করা এবং অপছন্দনীয় কাজ ত্যাগ করার নামই প্রকৃত তাওবা। শুধু গুনাহ ত্যাগ করাই নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিকর আমলে নিজেকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমেই তাওবা পূর্ণতা পায়।
ইসলামী পণ্ডিতদের মতে, তাওবা হলো মুমিনের জীবনের পুনর্জাগরণের একটি পথ, যা তাকে ইহকাল ও পরকালের শাস্তি থেকে রক্ষা করে।
কোরআনে তাওবার বিভিন্ন অর্থ
পবিত্র কোরআনে ‘তাওবা’ শব্দটি বহু অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে—কখনো ক্ষমা, কখনো ফিরে আসা, আবার কখনো নিজেকে সংশোধন করার অর্থে।
ক্ষমার অর্থে তাওবা
মহান আল্লাহ বলেন—
“অতঃপর আল্লাহ তোমাদের তাওবা কবুল করলেন; নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।”
(সুরা বাকারাহ, আয়াত ৫৪)
ফিরে আসার অর্থে তাওবা
আল্লাহ বলেন—
“হে ঈমানদাররা, তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা করো… তোমাদের রব তোমাদের পাপ মোচন করবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।”
(সুরা তাহরিম, আয়াত ৮)
নিজেকে সংশোধনের অর্থে তাওবা
“যারা তাওবা করে, সংশোধিত হয় ও সত্য প্রকাশ করে—আমি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল, করুণাময়।”
(সুরা বাকারাহ, আয়াত ১৬০)
তাওবায় আল্লাহ খুশি হন
হাদিস শরিফে এসেছে—
এক ব্যক্তি মরুভূমিতে হারানো পানাহারসহ সওয়ারিকে ফিরে পেয়ে যেমন আনন্দে আত্মহারা হয়, আল্লাহ মুমিন বান্দার তাওবায় তারও বেশি আনন্দিত হন।
(মুসলিম, হাদিস ৬৮৪৮)
অর্থাৎ বান্দা যখন গুনাহ ত্যাগ করে আন্তরিকভাবে ফিরে আসে, তখন আল্লাহ তার প্রতি বিশেষ রহমত বর্ষণ করেন।
তাওবার ফল—পাপকে পুণ্যে রূপান্তর
মহান আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—
“যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে—আল্লাহ তার পাপগুলোকে পুণ্যে পরিবর্তন করে দেবেন।”
(সুরা ফুরকান, আয়াত ৭০)
এ আয়াত প্রমাণ করে, তাওবা কেবল গুনাহ মাফের মাধ্যম নয়; বরং আল্লাহর অসীম দয়া বান্দার অতীতকে পুণ্যময় ভবিষ্যতে রূপান্তরিত করে।
আল্লাহর সন্তুষ্টি—নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ আছে—
যারা অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, আল্লাহ তাদের উত্তম জীবনের সামগ্রী দান করেন এবং রহমতের দরজা খুলে দেন।
(সুরা হুদ, আয়াত ৩)
সমাপ্তি কথা
তাওবার মাধ্যমে মানুষ তার অন্তর, আচরণ ও জীবনকে পবিত্র করতে পারে। গুনাহের বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথই হলো খাঁটি তাওবা—
অতীতের ভুলে অনুতপ্ত হওয়া, ভবিষ্যতে আল্লাহর আনুগত্যে অটল থাকার অঙ্গীকার করা এবং সৎকর্মে নিজেকে সম্পৃক্ত করা।
— দৈনিক আশুলিয়া

