ঢাকাSunday , 30 November 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. ধর্ম ও জীবন
  8. বিনোদন
  9. বিশেষ প্রতিবেদন
  10. রাজনীতি
  11. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সবুজ প্রযুক্তির নামে লুটপাট — জিটিএফ ঋণে খেলাপির ছড়াছড়ি

দৈনিক আশুলিয়া
November 30, 2025 9:57 am
Link Copied!

দৈনিক আশুলিয়া
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

এস আলম গ্রুপ–সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের বিপুল ঋণ ডুবেছে, ব্যাংকগুলোও দিশেহারা

পরিবেশ রক্ষা ও শিল্পখাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ)। ২০১৬ সালে চালু হওয়া ২১০ মিলিয়ন ডলারের এই রিফাইন্যান্সিং স্কিমে পরে যুক্ত হয় আরও ২০০ মিলিয়ন ইউরো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এই মহৎ উদ্যোগ পরিণত হয়েছে লুটপাট ও খেলাপির ভয়াবহ কেলেঙ্কারিতে। সবুজ প্রযুক্তির নামে নেওয়া হাজার কোটি টাকার ঋণ এখন ব্যাংকগুলোর গলার কাঁটা।


কাগজে প্রকল্প, বাস্তবে নেই অস্তিত্ব

জিটিএফ থেকে ঋণ দিতে ছিল কড়া যাচাই–বাছাই ও দু’স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা।
— কিন্তু বাস্তবে তা পরিণত হয়েছে ভ্রমণ বিলাস, সফর ও পিকনিকযাত্রায়
— বহু প্রকল্পের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই, কেবল কাগজেই তাদের বর্ণনা।

প্রকল্প পরিদর্শনের নামে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসঙ্গতি, গাফিলতি এবং ‘সব ঠিক আছে’ বলে সিল মেরে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।


এস আলম গ্রুপ ‘সবুজ ঋণের’ বড় সুবিধাভোগী—এখন সবাই খেলাপি

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলম–সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জিটিএফ থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিলেও এখন সবই খেলাপি

এসআইবিএল থেকে নেওয়া ঋণ:

  • ইনফিনিয়া স্পিনিং মিলস — ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি (সুদ মাত্র ১.৩১%)

  • ইনফিনিয়া স্পিনিং মিলস–২ — ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলার + ৩৩ লাখ ইউরো
    সবই খেলাপি হয়ে গেছে।

ইসলামী ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ:

  • ইউনিটেক্স কম্পোজিট লিমিটেড — ১ কোটি ২৬ লাখ ইউরো
    এটিও ফেরত আসছে না।

অভিযোগ অনুযায়ী, তখনকার সরকার–পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই এসব ঋণ অনুমোদন সহজ হয়েছিল।

এখন এস আলম গ্রুপের মূল মালিক ও সংশ্লিষ্টরা পলাতক, প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ, আর ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দায়ে জর্জরিত।


যে সম্পত্তি জামানত রাখা হয়েছে তার মূল্য ঋণের অর্ধেকও নয়

জিটিএফ নীতিমালা অনুযায়ী—
প্রকল্প ব্যয়ের ৭০% ঋণ, ৩০% মালিকের বিনিয়োগ
কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে—
জামানত রাখা সম্পদের মূল্য আসল ঋণের অর্ধেকও নয়
ফলে সম্পদ বিক্রি করেও পুরো টাকার জোগাড় সম্ভব নয়।


এসআইবিএল–এর বিপর্যয়: ৮৯১ কোটি টাকার ঋণ, প্রায় সবই খেলাপি

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন রিপোর্ট বলছে—
ইনফিনিয়া স্পিনিং মিলস–এর ঋণ

  • মোট: ৮৯১ কোটি ১০ লাখ টাকা

  • খেলাপি: ৮৯০ কোটি ৯ লাখ

  • বাকি ৮৯ লাখও আগামী মাসে খেলাপি হয়ে যাবে।

ব্যাংকের কাছে ডলার না থাকায় তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। ফলাফল—
এসআইবিএল এখন খেলাপি ব্যাংক


ব্যাংকগুলোর বক্তব্য: “সরকার পরিবর্তনের পর মালিকরা পলাতক”

এসআইবিএল–এর এমডি শফিউজ্জামান জানান—
“প্রতিষ্ঠানগুলো শুরুতে ভালোভাবে চলছিল। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর মালিকরা পলাতক হওয়ায় সব বন্ধ হয়ে গেছে। এলসি খোলার সুযোগও পায়নি। চেষ্টা করছি প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রি করতে, কিন্তু প্রকৃত দাম পাওয়া নিয়েও সন্দেহ আছে।”

ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক বলেন—
“রাজনৈতিক প্রভাবে ইউনিটেক্সকে ঋণ দেওয়া হয়েছিল। এখন আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলাপ করে সমাধানের চেষ্টা করছি।”


এক্সিম ব্যাংকেও জিটিএফ ঋণে বিপুল খেলাপি

খেলাপির তালিকায় আছে—

  • ইউনিটেক্স সিলিন্ডার লিমিটেড — ৩৬ লাখ ৯৩ হাজার ডলার

  • ইউনিটেক্স স্পিনিং — ৫৬ লাখ ৯২ হাজার ডলার + প্রায় ৬০ লাখ ইউরো
    সবই ঝুঁকিপূর্ণ বা খেলাপি অবস্থায়।


বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত শুরু করেছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন—
“জিটিএফ ঋণ খেলাপির বিষয়ে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। যাচাই–বাছাইয়ে কোনো কর্মকর্তা গাফিলতি করলে অবশ্যই জবাবদিহিতে আনা হবে।”


সবুজ প্রযুক্তির নামে ‘সবুজ লুট’: এখন ব্যাংকগুলোর নিদারুণ সংকট

বিশেষজ্ঞদের মতে—
জিটিএফ ঋণের এই বিশাল খেলাপি দেশব্যাপী ব্যাংক খাতকে নতুন অস্থিতিশীলতার মুখে ফেলে দিয়েছে।
— ব্যাংকে ডলার সংকট
— কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ ফেরত দিতে না পারা
— জামানত মূল্যহীন
— প্রতিষ্ঠান মালিক পলাতক

সব মিলিয়ে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগটি এখন পরিণত হয়েছে বৃহৎ আর্থিক কেলেঙ্কারিতে


— দৈনিক আশুলিয়া অর্থনীতি ডেস্ক