দৈনিক আশুলিয়া
জাতীয় সংবাদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এ দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে না নিয়ে পুরো বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে রয়েছে সংস্থাটি।
ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও মনিটরিং প্রক্রিয়ায় ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে ক্যামেরা তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় জনবলও কমিশনের নেই। ফলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের মাধ্যমেই সিসিটিভি ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সুপারিশ করছে ইসি।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার সঙ্গে বৈঠকের কার্যপত্রে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের ওপর জোর দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকর মনিটরিং প্রয়োজন।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিসিটিভি স্থাপনে আর্থিক সহায়তা চেয়ে ইসিকে চিঠি দিলে কমিশন জানায়—এই ব্যয়ভার বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে যেসব ভবন বা প্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই ক্যামেরা রয়েছে, সেগুলোর তালিকা মাঠ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করছে ইসি।
৪২ হাজারের বেশি কেন্দ্র—ঝুঁকিপূর্ণ ৬৭ শতাংশ
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষদের জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি ও নারীদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৪টি।
পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে ৮ হাজার ২২৬টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ২০ হাজার ৪৩৭টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট কেন্দ্রের প্রায় ৬৭ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। কেন্দ্রের অবস্থান, থানার দূরত্ব, প্রভাবশালীদের বাসস্থান ও ভৌত পরিবেশ বিবেচনায় এসব শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা বাড়তে পারে
ইসি কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, একইসঙ্গে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবার নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনেও বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করেছিল—
-
পুলিশ: ১ লাখ ২৬ হাজার ৭২ জন
-
আনসার: ৫ লাখ ১৪ হাজার ২৮৮ জন
-
বিজিবি: ১,১১৫ প্লাটুন
-
কোস্টগার্ড: ৭৫ প্লাটুন
-
র্যাব: ৬০০ টিম
-
সেনাবাহিনী: ৩৮ হাজার ১৫৪ সদস্য
-
নৌবাহিনী: ২,৮২৭ সদস্য
এবার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ায় এসব বাহিনীর কার্যক্রম সমন্বয়ে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
ভোটকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা
নির্বাচনের আগে, চলাকালীন এবং পরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিয়েছে—
-
অবৈধ অস্ত্র দমন ও বৈধ অস্ত্র প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা
-
মনোনয়ন থেকে প্রতীক বরাদ্দ পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসের নিরাপত্তা জোরদার
-
পোস্টার, ব্যানার, গেট ও তোরণ অপসারণ
-
নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা মূল্যায়ন
-
পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় নির্বাচনী মালামাল পরিবহনে হেলিকপ্টার সহায়তা
-
বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
-
ড্রোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
-
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় বিশেষ নজরদারি
ইসির লক্ষ্য, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা। সে অনুযায়ী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণা করতে চায় কমিশন।

