দৈনিক আশুলিয়া
তারিখ: ২২ ডিসেম্বর
নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা অশান্তির কারণ: হাদিসে প্রশান্ত জীবনের দিকনির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
মানুষের অন্তরের অশান্তির অন্যতম বড় কারণ হলো নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা। অন্যের প্রাচুর্য, সৌন্দর্য, শক্তি কিংবা সামাজিক অবস্থান দেখে নিজের প্রাপ্তিকে তুচ্ছ মনে করার প্রবণতা ধীরে ধীরে মানুষের কৃতজ্ঞতাবোধকে গ্রাস করে। এর ফলশ্রুতিতে জন্ম নেয় হিংসা, হতাশা ও অসন্তোষের মতো মারাত্মক আত্মিক ব্যাধি।
ইসলাম মানুষের হৃদয়কে প্রশান্ত রাখার জন্য এমন নীতিমালা প্রদান করেছে, যা দৃষ্টি ও চিন্তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। এ প্রসঙ্গে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবহ হাদিস বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
আবূ হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
“তোমাদের কেউ যদি এমন ব্যক্তির দিকে তাকায়, যাকে সম্পদ ও শারীরিক গঠনে তার চেয়ে বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, তবে সে যেন তার চেয়ে নিম্নস্তরের ব্যক্তির দিকে তাকায়।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৯০)
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, এই হাদিস মানুষের মানসিক ভারসাম্য রক্ষার এক অনুপম দিকনির্দেশনা। দুনিয়াবি বিষয়ে সব সময় নিজের চেয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে থাকলে মানুষের মনে অসন্তোষ জন্ম নেয়। কারণ, দুনিয়াতে সব সময়ই এমন কেউ থাকবে, যে সম্পদ, সৌন্দর্য কিংবা ক্ষমতায় আমাদের চেয়ে এগিয়ে।
হাদিসের এই নির্দেশনা অনুযায়ী, দুনিয়ার বিষয়ে নিজের চেয়ে কম প্রাপ্ত মানুষের কথা স্মরণ করলে হৃদয়ে কৃতজ্ঞতা জন্ম নেয়, আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টি আসে এবং হিংসা ও হতাশার আগুন নিভে যায়। এটিই আত্মিক প্রশান্তির এক বাস্তবমুখী চিকিৎসা।
তবে আলেমরা মনে করিয়ে দেন, এই নীতি দুনিয়াবি বিষয়ে প্রযোজ্য। দ্বীনের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো—সেখানে নিজের চেয়ে অগ্রসর ব্যক্তিদের দিকে তাকিয়ে অনুপ্রেরণা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমেই ইসলাম মানুষকে দুনিয়ায় সংযত, কৃতজ্ঞ ও প্রশান্ত এবং আখিরাতে উন্নতির পথে পরিচালিত করে।
সংক্ষেপে বলা যায়, এই হাদিস মানুষকে শিক্ষা দেয়—দৃষ্টি সঠিক হলে হৃদয় সঠিক থাকে; আর হৃদয় সঠিক থাকলে জীবন হয়ে ওঠে শান্ত, ভারসাম্যপূর্ণ ও আল্লাহমুখী।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং দুনিয়ার জীবনে নিজ নিজ অবস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা আদায় করে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করার তাওফিক দান করুন।


