দৈনিক আশুলিয়া | নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, আইনি ও প্রক্রিয়াগত নানা ত্রুটির কারণে মোট ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
ইসি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গত ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল। এ সময় ৩ হাজার ৪০৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৫৬৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। বাছাই শেষে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং ৭২৩টি বাতিল হয়।
এ ছাড়া বেগম খালেদা জিয়া-এর নামে দাখিল করা তিনটি মনোনয়নপত্র তাঁর মৃত্যুর কারণে বাছাইয়ের জন্য বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চিত্র
বাতিল হওয়া ৭২৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে প্রায় ৩৫০টি স্বতন্ত্র প্রার্থীর। বাকি মনোনয়নপত্রগুলো ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের।
দলভিত্তিক হিসাবে—
-
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি): ২৭ জন
-
জামায়াতে ইসলামী: ৯ জন
-
জাতীয় পার্টি: ৫৭ জন
-
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ৪১ জন
ইসি সূত্র জানায়, বিএনপির বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বেশির ভাগই দলীয় পরিচয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও দলের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করেননি। বিএনপির পরিচয়ে মোট ৩৩১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর ২৭৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ২২৭ জন বৈধতা পেয়েছেন এবং ৪১ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি—২২৪ জনের মধ্যে ৫৭ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।
কেন বাতিল হলো মনোনয়নপত্র
ইসি কর্মকর্তারা জানান, বাছাইয়ের সময় আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়ায় যেসব কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—
-
হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা বা ম্যাজিস্ট্রেট/নোটারি পাবলিকের সামনে স্বাক্ষর না করা
-
ঋণখেলাপি হওয়া বা জামানতকারী হিসেবে ঋণখেলাপি থাকা
-
ইউটিলিটি বিল পরিশোধ না করা
-
আয়কর বিবরণী না দেওয়া
-
মনোনয়নপত্র অসম্পূর্ণভাবে পূরণ
-
দ্বৈত নাগরিকত্ব
-
মামলা সংক্রান্ত তথ্য গোপন
-
সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হওয়া
-
দলীয় প্রত্যয়নপত্র দাখিল না করা
-
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর না থাকা
আপিলের সুযোগ
ইসি জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র পূরণে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এবং ছোটখাটো ভুলে যেন প্রার্থিতা বাতিল না হয়—সে নির্দেশনাও ছিল।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে। আপিল নিষ্পত্তির পরও কেউ অসন্তুষ্ট হলে সংসদ নির্বাচনের জন্য গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।
সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের জন্য আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করবে ইসি। প্রথম দিনেই ৪২টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৪১টি আবেদন প্রার্থিতা ফিরে পেতে এবং একটি আবেদন প্রার্থিতা বাতিলের জন্য করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আটটি দল কোনো প্রার্থী দেয়নি।

