দৈনিক আশুলিয়া
রিপোর্টার: মোঃ আল আমিন কাজী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এ জমা পড়েছে ৫০০’রও বেশি আবেদন। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকে এসব আবেদন জমা পড়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির পল্টন কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্ধারিত কোনো ফরম না থাকায় প্রার্থীরা সাদা কাগজে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। অনেকেই তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মিছিল-মিটিং এবং দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ছবি সংযুক্ত করেছেন। এসব আবেদন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলীয় কর্মকর্তা জানান, গত ১৬ মার্চ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ৫০০’র বেশি আবেদন জমা পড়েছে, যা দলীয়ভাবে রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসব আবেদন দলীয় হাইকমান্ডের কাছে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
খুলনা থেকে আবেদন করা এক নারী নেত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। তাই সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হওয়ার জন্য আবেদন করেছি। আশা করি আমার যোগ্যতা মূল্যায়ন করা হবে।” তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন অনেক প্রার্থী।
এদিকে, মনোনয়ন পেতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব হয়ে উঠেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অনেকে একাধিক ফেসবুক পেইজ খুলে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং পেইড ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই প্রচেষ্টা বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা বেড়েছে। অনেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মনোনয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে মহিলা দল ও সাবেক ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট নেত্রীরা এ দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।
তবে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ঈদের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। সাধারণ আসনে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে এসব আসন বণ্টন করা হয়। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পাওয়ায় দলটি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি পাবে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাবে ১১টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাবে ১টি আসন। বাকি ৩টি আসন স্বতন্ত্র ও ছোট দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে।
আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মনোনয়নসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৬ জন, যার মধ্যে জয়ী হয়েছেন ৭ জন। সংরক্ষিত আসন যুক্ত হলে সংসদে মোট নারী সদস্যের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৭ জন, যা মোট আসনের প্রায় ১৬ শতাংশ।
📌 সারসংক্ষেপ:
-
বিএনপিতে নারী আসনে আবেদন: ৫০০+
-
সম্ভাব্য আসন: ৩৫টি (বিএনপি)
-
সিদ্ধান্ত: ঈদের পর
-
মোট নারী সদস্য (সম্ভাব্য): ৫৭ জন
দৈনিক আশুলিয়া – রাজনীতি, জনগণ ও বাস্তবতার নির্ভরযোগ্য প্রতিচ্ছবি।
সংরক্ষিত নারী আসন বিএনপি, নারী এমপি আবেদন বাংলাদেশ, BNP reserved seat women, তারেক রহমান মনোনয়ন, জাতীয় সংসদ নারী আসন

