ঢাকাMonday , 9 February 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. ধর্ম ও জীবন
  8. বিনোদন
  9. বিশেষ প্রতিবেদন
  10. রাজনীতি
  11. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে: ড. ইউনূস ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত ও স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার

দৈনিক আশুলিয়া
February 9, 2026 10:51 am
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দৈনিক আশুলিয়া

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, কেউই চিরস্থায়ী নয়, তবে নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা ধরে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে এই দেশ কীভাবে স্বাধীন হয়েছে এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাদের পথ দেখাবে।

রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে উদ্যোগ

বৈঠকে ড. ইউনূস বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করা এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন,
“বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধা করে। অতীতে অনেকে এই শ্রদ্ধাকে পুঁজি করে স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছে। ভবিষ্যতে যেন এমন না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, অতীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এগুলোকে আবার কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের আহ্বান

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“আর কয়েক বছর পর নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই তাদের স্মৃতি সংরক্ষণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এখন থেকেই পরিকল্পনা নিতে হবে।”

সংস্কার ও গণভোট নিয়ে বক্তব্য

ড. ইউনূস বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন,
“সংস্কার না হলে আমরা একই জায়গায় আটকে থাকব।”

উপদেষ্টার বক্তব্য

বৈঠকে উপস্থিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, অতীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমান সরকার সেই জটিলতা দূর করে মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের মতামত

বৈঠকে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধারা প্রধান উপদেষ্টাকে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও গণভোট আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না এবং সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক হবে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকা প্রশংসনীয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান পুনরুদ্ধারের দাবি

বৈঠকে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করেন, গত বছরগুলোতে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং অনেক সময় তাদের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হুদা বলেন,
বর্তমান সরকার বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ভুল বোঝাবুঝি দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে।

নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার

প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“আমি হয়তো বেশিদিন সরকারে থাকব না। তবে নাগরিক হিসেবে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাব।”

তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে সংগঠনগুলোর সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।