বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা: মোঃ আল আমিন কাজী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের পরাজিত ৪১ জন প্রার্থী। এসব আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ব্যালট পেপার, ফলাফল শিট, সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনি উপকরণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নোটিস জারি করা হয়েছে।
নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া ৪১টি আবেদনের মধ্যে বিএনপির ২৫টি, জামায়াতে ইসলামীর ১৩টি, জামায়াত জোটের দুই দলের দুটি এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর একটি আবেদন রয়েছে। প্রতিপক্ষের জবাব পাওয়ার পর এসব আবেদনের মূল শুনানি শুরু হতে পারে।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চকে ‘নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল’ হিসেবে দায়িত্ব দেন। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ৩৯টি আবেদন গ্রহণ করে আদেশ দেওয়া হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সময়ে বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর একক বেঞ্চকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যেখানে আরও দুটি আবেদনের শুনানি হয় এবং নির্বাচনি উপকরণ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিএনপি প্রার্থীদের আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে মামলা করার সুযোগ থাকলেও নির্ধারিত সময় ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে যারা সময়মতো আবেদন করেছেন, তাদের মামলার শুনানি হবে। তিনি বলেন, নোটিস ফেরত আসার পরই মূল শুনানি শুরু হবে, যা এপ্রিলের শেষ থেকে জুন পর্যন্ত গড়াতে পারে।
ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির ২৫ প্রার্থী, জামায়াতের ১৩ প্রার্থী, জামায়াত জোটের দুই প্রার্থী এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করেছেন।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এসব মামলার শুনানি সময়সাপেক্ষ হলেও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচনি উপকরণ সংরক্ষণ করা হলে পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
—মোঃ আল আমিন কাজী

