নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় প্রথমবারের মতো জিরা চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন এক তরুণ কৃষক। তার এ সফলতায় এলাকায় নতুন সম্ভাবনার কথা বলছেন কৃষি কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে এতে দেশে জিরার আমদানিনির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনাও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সফল এই কৃষকের নাম অমিত কুমার দাস। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের তারাইল গ্রামের বাসিন্দা এবং গোপাল চন্দ্র দাসের ছেলে। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে জিরা চাষ করেন।
ভাঙ্গা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মসলার উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো উপজেলায় জিরা চাষের একটি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় কৃষক অমিত কুমার দাস তারাইল গ্রামে ১০ শতাংশ জমিতে বারি জিরা–১ জাতের জিরা চাষ করেন।
তরুণ কৃষক অমিত কুমার দাস বলেন, ‘ভাঙ্গা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী জমিতে জিরা চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে এবং এতে লাভবান হওয়ার আশা করছি। এখন ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি চলছে।’
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর এই প্রদর্শনী প্লট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর লক্ষ্য ছিল স্থানীয় কৃষকদের উন্নত জাতের জিরা চাষ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করা।
ভাঙ্গা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জিলুর রহমান বলেন, জিরার উন্নত জাত ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের হাতে-কলমে ধারণা দেওয়ার জন্য এ ধরনের প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ। এতে স্থানীয় কৃষকরা নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং চাষে উৎসাহিত হবেন।
ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোল্লা আল মামুন জানান, কৃষক অমিত কুমার দাসকে জিরার বীজ সরবরাহ করা হয় এবং কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে তিনি চাষাবাদ করেন। বীজ বপনের পর প্রায় ১০৫ দিন সময় লেগেছে ফসল ঘরে তুলতে। ভবিষ্যতে জিরা চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রমজান আলী বলেন, প্রতিবছর বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ জিরা আমদানি করতে হয়। দেশে এ ধরনের চাষ বাড়ানো গেলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
—নিজস্ব প্রতিবেদক

