দৈনিক আশুলিয়া
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
প্রতিবেদক: মোঃআল আমিন কাজী
গাজীপুর: গাজীপুরে আপন ছোট ভাইকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগে বড় ভাই ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত কিশোর আ. রাহিমের (১৩) অপরাধ ছিল বাবার কাছে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে চাওয়া—এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন নিহতের বড় ভাই মো. আলামিন হোসেন (২৩) এবং তার বন্ধু আশিক আহমেদ (২০)। আশিক গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার ডগরী খাসপাড়া গ্রামের কাজী নজরুল ইসলামের ছেলে।
বুধবার সকালে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।
নিখোঁজের পর উদ্ধার অর্ধগলিত লাশ
নিহত আ. রাহিম গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার ডগরী নয়াপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম কোহিনুরের ছেলে। সে স্থানীয় নয়াপাড়া এবাদিয়া দাখিল মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি রাহিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা নুরুল ইসলাম জয়দেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেবাড়ি পদ্মপাড়া এলাকার সরকারি শালবনের ভেতর মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় একটি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহতের বাবা পোশাক দেখে লাশটি তার ছেলে রাহিমের বলে শনাক্ত করেন।
মোবাইল কেনা নিয়ে বিরোধ থেকে হত্যাকাণ্ড
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, রাহিম তার বাবার কাছে একটি মোবাইল ফোন কেনার জন্য বায়না ধরেছিল। বিষয়টি বড় ভাই আলামিন জানতে পেরে তাকে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আলামিন তার বন্ধু আশিক ও আরেক সহযোগী সুমনকে সঙ্গে নিয়ে রাহিমকে বাড়ির অদূরে জয়দেবপুর থানার বিকেবাড়ি পদ্মপাড়া এলাকার সরকারি শালবনের ভেতর নিয়ে যায়।
সেখানে রাহিমকে মাফলার দিয়ে একটি গজারী গাছের সঙ্গে বেঁধে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে আলামিন তাকে মারধর করলে রাহিম পুরো ঘটনা বাবাকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আলামিন ছোট ভাইকে মাটিতে ফেলে গলাটিপে হত্যা করে।
হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা
পুলিশ জানায়, হত্যার পর আলামিন ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলের পাশেই একটি গর্ত খুঁড়ে লাশ মাটিচাপা দেয়। পরে পরিচয় গোপন করতে রাহিমের পরনের জ্যাকেট বড়চালা এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে নিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার
পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে মঙ্গলবার ভোরে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার মির্জাপুর এলাকা থেকে আলামিন ও আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু খায়ের, মো. মোজাম্মেল হোসেন, আমিনুল ইসলাম, মো. মহাবুবুর রহমান ও লিপি রাণী সিনহা এবং জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

