তুচ্ছ বিরোধের জেরে হামলা-পাল্টা হামলা, একজন আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক আশুলিয়া
গাজীপুরের কালীগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হাবিবুর রহমান ওরফে হবি শিকদার (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার খলাপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত হাবিবুর রহমান পৌরসভার দেওপাড়া এলাকার মৃত কালেব আলীর ছেলে। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার খলাপাড়ায় তার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
আহতরা হলেন—খলাপাড়া এলাকার নজরুল মোল্লার ছেলে সজিব মোল্লা (৩২) এবং ফজলুল হকের মেয়ে জেসমিন (৩০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খলাপাড়া এলাকায় সজিব মোল্লা ও তার ভাই সৌরভ মোল্লার একটি গ্রিলের ওয়ার্কশপ রয়েছে। এর পাশেই রিপন শিকদারের আরেকটি গ্রিলের ওয়ার্কশপ অবস্থিত।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সৌরভ মোল্লার সঙ্গে রিপন শিকদারের ছেলে ইকবাল শিকদারের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
তবে সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সৌরভ মোল্লা, তার বাবা নজরুল মোল্লা, ভাই সজিব মোল্লা ও ফুপা হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন ইকবাল শিকদারের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান। এ সময় বাড়িতে থাকা ইকবাল শিকদার, রিপন শিকদার, আল আমিন ও জেসমিনসহ কয়েকজন পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে হাবিবুর রহমান গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারান। একই ঘটনায় সজিব মোল্লা গুরুতর আহত হন এবং জেসমিন আহত হন।
পরে আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাবিবুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সজিব মোল্লাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত জেসমিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক শহিদুল ইসলাম জানান, রাত পৌনে ৯টার দিকে হাবিবুর রহমানকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহতদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিয়াদুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোঃ আল আমিন
স্টাফ রিপোর্টার
দৈনিক আশুলিয়া

