দৈনিক আশুলিয়া
প্রতিবেদক: মোঃ আল আমিন কাজী
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) প্রকাশিত একটি ভিডিও। গত ৪ মার্চ আইডিএফ তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করে, তারা ইরানের একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে। তবে ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক সামরিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ব্যবহারকারী দাবি করেন, সেখানে আসল কোনো হেলিকপ্টার ছিল না। বরং মাটিতে আঁকা একটি ত্রিমাত্রিক ছবির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তাদের মতে, বিস্ফোরণের সময় এবং পরবর্তী দৃশ্যগুলোতে হেলিকপ্টারের পাখা বা কাঠামোর দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি, যা সাধারণত ধাতব সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের সময় হয়ে থাকে।
সমালোচকদের দাবি, ইরান শত্রুকে বিভ্রান্ত করার জন্য মাটিতে হেলিকপ্টারের মতো ত্রিমাত্রিক ছবি এঁকে একটি কৌশল অবলম্বন করেছে। এর ফলে ইসরায়েল কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি ক্ষেপণাস্ত্র নষ্ট করেছে বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
তবে এ নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। ভিডিওটির নিচে যুক্ত করা একটি ‘কমিউনিটি নোট’ এবং কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, ভিডিওতে হেলিকপ্টারটির তাপীয় স্বাক্ষর বা থার্মাল সিগনেচার এবং ছায়া দেখা গেছে, যা কেবল একটি সাধারণ ছবি বা পেইন্টিং দিয়ে তৈরি করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, ধোঁয়ার গতিপথ এবং তাপ নির্দেশক চিত্রগুলো থেকে বোঝা যায় সেখানে বাস্তব কোনো সামরিক সরঞ্জাম থাকতে পারে।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, গত এক সপ্তাহ ধরে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘর্ষে উভয় পক্ষই সামরিক অভিযানের পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তারের কৌশলও ব্যবহার করছে।

