ঢাকাThursday , 5 March 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলামী জীবন
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. টক শো
  9. বিনোদন
  10. বিশেষ প্রতিবেদন
  11. রাজনীতি
  12. সারাদেশ
  13. হেলথ কর্নার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজধানীতে মাদক কারবারে সক্রিয় কিশোর গ্যাং অভিযানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ ডিএনসি কর্মকর্তা, অস্ত্রের দাবি সংস্থার

Link Copied!

দৈনিক আশুলিয়া
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
প্রতিবেদক: মোঃআল আমিন কাজী

ঢাকা: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শ স্পটে মাদক কারবার চলছে, যার বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এসব গ্যাং সদস্যদের হাতে অবৈধ পিস্তল, রিভলভারসহ ধারালো অস্ত্র রয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে প্রায়ই হামলার ঘটনা ঘটছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার অভিযানে গিয়ে খিলগাঁও অঞ্চলের পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান কিশোর গ্যাং সদস্যদের গুলিতে আহত হয়েছেন।

অভিযানে হামলার ঘটনা বাড়ছে

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলার ঘটনায় কিশোর গ্যাং সদস্যরা জড়িত। তাদের হাতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় তারা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

ডিএনসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মাদক কারবারিদের তালিকা ধরে অভিযান জোরদার করার পর থেকেই সংস্থার সদস্যরা একের পর এক হামলার শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযানের সময় কিশোর গ্যাং সদস্যরা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালাচ্ছে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

অস্ত্র চায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

ডিএনসির উপপরিচালক মুকুল জতি চাকমা বলেন, “মাদক সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মাদকের প্রবণতা বাড়ছে। মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে আমাদের সদস্যরা হামলার শিকার হচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে আমরা অনেকটাই নিরস্ত্র অবস্থায় অভিযান পরিচালনা করছি। তাই মাদক প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে ডিএনসির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। অস্ত্রের ধরন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইতোমধ্যে একটি কমিটি কাজ করেছে।”

দেশে মাদকসেবীর সংখ্যা বাড়ছে

গত রবিবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছে। যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, মাদকসেবীদের বড় একটি অংশ কিশোর ও তরুণ। শীর্ষ মাদক কারবারিদের নির্দেশনায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।

গুলিবিদ্ধ হন ডিএনসি কর্মকর্তা

ডিএনসি সূত্র জানায়, গত সোমবার যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি চালানোর সময় সে রিভলভার বের করে পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমানকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুর রহমান বলেন, “আটক ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা রিভলভারটি ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

মাদককে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড

ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, খুচরা পর্যায়ে মাদক বিক্রির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়েও হত্যাকাণ্ড ঘটছে।

গত ২ মার্চ গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আকরাম হোসেন নামে এক নির্মাণ শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার বুড়িচং এলাকায় রমিজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও জড়িত

ডিএনসি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া অনেকের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে এমডিএমবি নামের মাদকের বড় চালানসহ চার শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীরা ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের ক্লোজড গ্রুপ ব্যবহার করে সংকেতপূর্ণ পোস্টের মাধ্যমে মাদক বিক্রি করত। আগ্রহী ক্রেতাদের সঙ্গে ইনবক্স ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে অবস্থান শেয়ার ও লাইভ ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে মাদক সরবরাহ করা হতো বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।