আন্তর্জাতিক ডেস্ক | মোঃ আল আমিন কাজী
দৈনিক আশুলিয়া
ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ জব্দ করতে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত অন্তত চারটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪৫০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম অল্প সময়ের মধ্যেই অস্ত্র-মানের পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতেই এমন পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে মার্কিন প্রশাসন।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সেনারা যদি এই ইউরেনিয়াম জব্দের অভিযান চালায়, তবে তাদের ইরানের ভূখণ্ডে সরাসরি প্রবেশ করতে হবে। কারণ এসব উপাদান অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এমন অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সম্ভাব্য এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র একাই অংশ নেবে নাকি ইসরায়েলও এতে যুক্ত হবে—সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
এর আগে গত ৩ মার্চ মার্কিন কংগ্রেসে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করা হবে কি না—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, “কেউ না কেউ সেখানে গিয়ে এটি নিয়ে আসতে হবে।” তবে কে বা কোন বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করবে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
একজন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য অর্জনের জন্য ইরানে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী ইউনিট পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে।
অন্যদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে প্রশাসন দুটি সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে। একটি হলো—ইরান থেকে সম্পূর্ণ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া। অন্যটি হলো—পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের সেখানে পাঠিয়ে ইউরেনিয়ামকে কম সমৃদ্ধ বা পাতলা করে দেওয়া।
সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য এই মিশনে বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি পারমাণবিক বিজ্ঞানীরাও থাকতে পারেন। যুদ্ধ শুরুর আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপিত বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনার তালিকায় এমন অভিযানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযান বাস্তবায়ন হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

