ঢাকাThursday , 12 March 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলামী জীবন
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. টক শো
  9. বিনোদন
  10. বিশেষ প্রতিবেদন
  11. রাজনীতি
  12. সারাদেশ
  13. হেলথ কর্নার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পোশাক রপ্তানিতে ভাটা, আট মাসে কমেছে ৩.৭৩ শতাংশ

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কিছুটা ভাটা দেখা দিয়েছে। এই সময়ে পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কয়েকটি প্রধান বাজারেও রপ্তানিতে পতনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে তৈরি পোশাক খাত থেকে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় দুই হাজার ৫৮০ কোটি মার্কিন ডলার।

তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আলোচ্য সময়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানি হয়েছে প্রায় এক হাজার ২৬৯ কোটি ডলার, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৪৯ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে এই বাজারে আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি কমেছে প্রায় ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউরোপের কয়েকটি বড় বাজারে খুচরা বিক্রি কমে যাওয়া এবং ক্রেতাদের অর্ডার হ্রাস পাওয়ার প্রভাব এ পতনের পেছনে কাজ করছে।

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৫০৩ কোটি ডলারের পোশাক, যা মোট রপ্তানির ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে এই বাজারেও আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি সামান্য কমে ০ দশমিক ৭৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ সুদের হার ও মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়ায় পোশাকের অর্ডার কমেছে।

তবে কিছু বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিও লক্ষ্য করা গেছে। কানাডায় এই সময়ে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলারের পোশাক, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলারের পোশাক, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ২২ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, অপ্রচলিত বা নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪২৪ কোটি ডলারের পোশাক, যা মোট রপ্তানির প্রায় ১৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে এসব বাজারে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অর্ডার কমে যাওয়ার প্রভাব এতে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পণ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তৈরি পোশাক খাতের প্রধান দুই পণ্য—নিটওয়্যার ও ওভেন—উভয় ক্ষেত্রেই রপ্তানি কিছুটা কমেছে। নিটওয়্যার পণ্যের রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলে এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ জোরদার করা গেলে আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আবার বাড়তে পারে। পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, উৎপাদন দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

—নিজস্ব প্রতিবেদক