দৈনিক আশুলিয়া
আপডেট: ১৯:৪১, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬/জাতীয়
দৈনিক আশুলিয়া প্রতিবেদক, ঢাকা: সংবিধান সংস্কার বা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, পূর্বে ঘোষিত ফলাফলের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—উভয় ভোটের সংখ্যাই কমেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে বাতিল ভোটের সংখ্যাও।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অতিরিক্ত গেজেটের মাধ্যমে এ সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, কমিশনের আদেশক্রমেই গণভোটের ফলাফলে এ সংশোধনী আনা হয়েছে।
ইসির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রতিফলন ঘটানোর লক্ষ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের মতামত যাচাই করতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ গণভোটের ফলাফল প্রথমে ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছিল।
প্রথম গেজেটের ফলাফল
প্রথম গেজেট অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ এবং ‘না’ ভোটের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬। ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট মিলিয়ে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩। এর মধ্যে বাতিল ভোট ছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬।
সংশোধিত গেজেটে নতুন হিসাব
সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০ এবং ‘না’ ভোট কমে হয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১। ফলে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭। এর মধ্যে বাতিল ভোট বেড়ে হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১।
কত কমেছে ভোট
সংশোধিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০। অন্যদিকে ‘না’ ভোট কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫। একই সঙ্গে বাতিল ভোটের সংখ্যা বেড়েছে ১২ হাজার ৫৫৯। সব মিলিয়ে মোট প্রদত্ত ভোট কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬।
কারণ জানায়নি ইসি
তবে ফলাফল সংশোধনের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। কমিশন শুধু জানিয়েছে, তাদের আদেশক্রমেই সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক বৈধতা চূড়ান্তের পথে জাতীয় সনদ
উল্লেখ্য, এই গণভোটের মাধ্যমেই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সাংবিধানিক বৈধতা ও জনসম্মতির বিষয়টি চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। ফলে ফলাফলের এ সংশোধনী নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নির্বাচন কমিশন যদি সংশোধনের কারণ বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করে, তবে এ বিষয়ে জনমনে তৈরি হওয়া বিভিন্ন প্রশ্নেরও সমাধান হবে।

