দৈনিক আশুলিয়া
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতিবেদক: মোঃ আল আমিন কাজী
মাদারীপুর: মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাজুড়ে নিষিদ্ধ ইলেকট্রিক শক পদ্ধতিতে মাছ শিকারের ভয়াবহ তাণ্ডব চলছে। পদ্মা নদী, আড়িয়াল খাঁ নদ ও বিল পদ্মা এলাকায় সংঘবদ্ধ চক্রের এই অবৈধ কার্যক্রমে রেণু-পোনা, মাছের ডিম ও নানা প্রজাতির জলজপ্রাণী নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে। এতে পুরো অঞ্চলের মৎস্যসম্পদ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার মাদবরের চর, কাঁঠালবাড়ি ও চর জানাজাত ইউনিয়নের নদ-নদীতে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা নৌকায় ইনভার্টার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি বহন করে পানিতে বৈদ্যুতিক তার ফেলে শক দেয়। এতে নির্দিষ্ট এলাকায় ছোট-বড় সব মাছ মুহূর্তেই অচেতন হয়ে পানির ওপর ভেসে ওঠে। শুধু মাছই নয়, উপকারী জলজপ্রাণীও এতে মারা যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, চক্রের সদস্যরা সারা রাত এই কার্যক্রম চালিয়ে ভোরের আগেই ধরা মাছ মাদবরের চর ও পাঁচ্চর এলাকার বিভিন্ন আড়ত ও বাজারে বিক্রি করে সরে পড়ে। প্রতিটি নৌকা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত মাছ ধরা হচ্ছে, যার বড় অংশই রেণু-পোনা ও ছোট আকারের মাছ। ফলে মাছের প্রজনন চক্র মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, ইলেকট্রিক শকের কারণে স্বাভাবিক উপায়ে মাছ ধরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বেড জালসহ প্রচলিত জালে আগের মতো মাছ মিলছে না। এতে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ শিকার চলছে। ফলে প্রশাসন অভিযান চালালেও সংশ্লিষ্টরা আগাম খবর পেয়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, “ইলেকট্রিক শক পদ্ধতিতে মাছ শিকারের তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। কয়েক দফা অভিযান চালানো হলেও জড়িতদের পাওয়া যায়নি। নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সচেতন মহল মনে করছে, নদী ও বিলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে নিয়মিত অভিযান, বাজার তদারকি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয়দের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিবচরের জলাশয়গুলো অচিরেই মাছশূন্য হয়ে পড়বে।

