দৈনিক আশুলিয়া
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতিবেদক: মোঃ আল আমিন কাজী
লক্ষ্মীপুর: জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। এ সময় লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ জেলায় মোট ৫২ হাজার জেলে রয়েছে, যার মধ্যে ৪৩ হাজার নিবন্ধিত। তারা মূলত মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে সব ধরনের জাল ফেলা, মাছ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি নদীসংলগ্ন বরফকলগুলোও বন্ধ থাকবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার সময়সহ মোট চার মাস প্রতি নিবন্ধিত জেলে ১৬০ কেজি করে ভিজিএফ চাল পাবে। তবে জেলেদের অভিযোগ, প্রকৃত জেলের তুলনায় বরাদ্দ কম এবং সঠিকভাবে তালিকা প্রস্তুত না হওয়ায় অনেকেই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।
মজু চৌধুরীর হাটের জেলে কালাম, মিন্টু ও শরীফ হোসেন বলেন, “সরকারের সিদ্ধান্ত আমরা মেনে চলব। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার সময়ে পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বরাদ্দকৃত চাল যেন সঠিকভাবে প্রকৃত জেলেদের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।”
চর আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজীমারা পর্যন্ত প্রায় ৩০টি মাছঘাট রয়েছে। এসব ঘাট ও বরফকল নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বন্ধ থাকবে। আইন অমান্য করে নদীতে নামলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান চৌধুরী বলেন, “নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান বলেন, “জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স কাজ করছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভিজিএফ চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অভিযান সফল হলে চলতি মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

