দৈনিক আশুলিয়া
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতিবেদক: মোঃ আল আমিন কাজী
নরসিংদী: নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নিহতের মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় মোট ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতাররা হলেন— এবাদুল্লাহ (৪০), আহম্মদ আলী মেম্বার (৬৩), মো. ইমরান দেওয়ান (৩২) ও মো. আইয়ুব (৩০)।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “এজাহারভুক্ত চারজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকায় একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আমেনা আক্তার (১৫) নামে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের কারণে তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জন মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয় বলে জানা গেছে।
পরিবারের দাবি, বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়ি যাচ্ছিলেন। বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে পাঁচ যুবক মেয়েটিকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও না পেয়ে পরিবার বাড়ি ফিরে যায়। পরদিন সকালে সরিষা ক্ষেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-1 আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সব অপরাধীকে গ্রেফতার করে নিহতের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।
তিনি আরও বলেন, “অপরাধীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমেনার পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, তা নিশ্চিত করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

