ইসলাম ডেস্ক:
পবিত্র কোরআনকে মুসলমানদের কাছে এক অনন্ত জীবন্ত মুজেজা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, কোরআনের প্রতিটি শব্দের অর্থ ও ব্যাখ্যা এত গভীর যে মানুষের জ্ঞান ও সামর্থ্য দিয়ে তার পূর্ণ ব্যাখ্যা শেষ করা সম্ভব নয়।
ইসলামী আলেমদের আলোচনায় প্রায়ই বলা হয়, পৃথিবীর সব সমুদ্রের পানি যদি কালি হয় এবং সব গাছ যদি কলমে পরিণত হয়, তবুও কোরআনের একটি শব্দের পূর্ণ তাফসির লেখা শেষ করা যাবে না। কোরআনের প্রতিটি শব্দে লুকিয়ে রয়েছে গভীর প্রজ্ঞা, শিক্ষা ও মানবজীবনের জন্য দিকনির্দেশনা।
এক শীতের রাতে এক আধ্যাত্মিক মাহফিলে এক আলেম সুরা মারইয়ামের ১৫ নম্বর আয়াতের একটি শব্দ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আয়াতে বলা হয়েছে—
“ইয়াহইয়ার ওপর শান্তি বর্ষিত হয়েছে যেদিন সে জন্মগ্রহণ করেছে, যেদিন সে মারা যাবে এবং যেদিন তাকে পুনরুত্থিত করা হবে।”
ইয়াহইয়া (আ.) ছিলেন আল্লাহর নবী জাকারিয়া (আ.)–এর পুত্র। দীর্ঘদিন নিঃসন্তান থাকার পর বৃদ্ধ বয়সে জাকারিয়া (আ.) আল্লাহর কাছে সন্তানের জন্য দোয়া করেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করে তাঁকে ইয়াহইয়া নামে এক সন্তান দান করেন।
তাফসিরকারদের মতে, ইয়াহইয়া (আ.) ছিলেন অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের মানুষ। মানুষের দুঃখকষ্ট অনুভব করার এক বিশেষ ক্ষমতা ছিল তাঁর। তিনি ছিলেন আল্লাহভীরু এবং বাবা-মায়ের প্রতি অত্যন্ত অনুগত।
আয়াতের ভাষাগত দিক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আলেমরা বলেন, জন্ম ও পুনরুত্থানের ক্ষেত্রে আরবি ভাষায় কর্মবাচ্য বা প্যাসিভ রূপ ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ মানুষের জন্ম ও পুনরুত্থান তার নিজের হাতে নয়; এটি আল্লাহর ইচ্ছা ও ব্যবস্থাপনায় সংঘটিত হয়।
কিন্তু মৃত্যুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে ‘ইয়ামুতু’ শব্দ, যা কর্তৃবাচ্য বা অ্যাকটিভ রূপে এসেছে। ভাষাবিদদের মতে, এর মাধ্যমে একটি গভীর শিক্ষা দেওয়া হয়েছে—মানুষ তার জীবনযাপন, আমল ও চরিত্রের মাধ্যমে নিজের মৃত্যুর ধরন অনেকাংশে নির্ধারণ করে।
আলেমদের ভাষ্যে, ইয়াহইয়া (আ.) তাঁর জীবন কাটিয়েছেন আল্লাহভীতি, মানবসেবা এবং বাবা-মায়ের খেদমতের মাধ্যমে। এই সৎ জীবনই তাঁকে শান্তিপূর্ণ মৃত্যুর দিকে নিয়ে গেছে।
ধর্মীয় আলোচনায় বলা হয়, মানুষের জীবনও ঠিক তেমনই। যে ব্যক্তি সারা জীবন নেক আমল, সৎকর্ম এবং আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার চেষ্টা করে, তার জন্য মৃত্যু সহজ হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি জীবনজুড়ে দায়িত্ব অবহেলা করে, তার কাছে মৃত্যু হঠাৎ কঠিন বাস্তবতা হয়ে ধরা দেয়।
ইসলামী চিন্তাবিদরা মনে করেন, মানুষের উচিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে পরকালীন জীবনের প্রস্তুতি হিসেবে গ্রহণ করা।
শেষে আলেমরা দোয়া করেন—আল্লাহ যেন সবাইকে সুন্দর জীবন, সহজ মৃত্যু এবং উত্তম পুনরুত্থানের তাওফিক দান করেন।
—ইসলাম ডেস্ক

