ঢাকাSaturday , 14 March 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলামী জীবন
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. টক শো
  9. বিনোদন
  10. বিশেষ প্রতিবেদন
  11. রাজনীতি
  12. সারাদেশ
  13. হেলথ কর্নার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাকাতের সঠিক বণ্টনে দারিদ্র্য হ্রাসে জোর

Link Copied!

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক:

ইসলামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় জাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি কেবল আর্থিক দান নয়; বরং আল্লাহর নির্দেশিত একটি ফরজ ইবাদত, যার মাধ্যমে ধনীদের সম্পদ পবিত্র হয় এবং সমাজের দরিদ্র মানুষের অধিকার নিশ্চিত হয়।

পবিত্র কোরআনে বহু স্থানে নামাজের পাশাপাশি জাকাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, “তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং জাকাত আদায় করো” (সুরা আল-বাকারা: ৪৩)। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, জাকাতের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা এবং দরিদ্র মানুষের কষ্ট লাঘব করা।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, যখন একজন মুসলমান তার সম্পদের নির্ধারিত অংশ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করেন, তখন তার সম্পদ পবিত্র হয় এবং সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

যাদের ওপর জাকাত ফরজ
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক। ব্যক্তিকে মুসলমান হতে হবে এবং তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকতে হবে। সেই সম্পদের ওপর এক বছর অতিক্রান্ত হলে জাকাত আদায় করা ফরজ হয়ে যায়।

নিসাব পরিমাণ সম্পদের মধ্যে স্বর্ণ, রুপা, নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক পণ্য এবং কিছু ক্ষেত্রে কৃষিজ ফসল ও পশু অন্তর্ভুক্ত হয়। সাধারণভাবে সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা এর সমপরিমাণ সম্পদ থাকলে জাকাত ফরজ হয়।

যারা জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত
কোরআনে জাকাত পাওয়ার জন্য আট শ্রেণির মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—দরিদ্র, নিঃস্ব, জাকাত সংগ্রহকারী, নতুন মুসলমান বা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ব্যক্তিরা, দাসমুক্তির জন্য নির্ধারিত ব্যক্তি, ঋণগ্রস্ত মানুষ, আল্লাহর পথে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং মুসাফির।

তবে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, সন্তান-সন্ততি কিংবা স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে জাকাত দিতে পারেন না।

জাকাত প্রদানে সতর্কতা প্রয়োজন
ইসলামী আলেমরা বলেন, জাকাত একটি ফরজ ইবাদত হওয়ায় এটি যথাযথভাবে আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় আবেগ বা অজ্ঞতার কারণে এমন ব্যক্তিকে জাকাত দেওয়া হয়, যিনি প্রকৃতপক্ষে এর উপযুক্ত নন। এতে জাকাত আদায় সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না।

তাই জাকাত দেওয়ার আগে প্রাপকের অবস্থা যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি জাকাতের অর্থ যেন অপচয় বা অন্যায় কাজে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। জাকাত দেওয়ার সময় নিয়ত বিশুদ্ধ থাকা প্রয়োজন এবং তা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই দিতে হবে।

প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাকাত বিতরণ
বর্তমান সময়ে অনেক সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জাকাত সংগ্রহ করে দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করে থাকে। সঠিকভাবে পরিচালিত হলে এ ধরনের উদ্যোগ সমাজকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে আলেমরা বলছেন, জাকাতের অর্থ এমন প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া উচিত, যারা স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তা বণ্টন করে। যদি সন্দেহ থাকে যে অর্থ সঠিকভাবে বণ্টন হচ্ছে না, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে জাকাত পৌঁছে দেওয়াই উত্তম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাকাত সঠিকভাবে আদায় ও বণ্টন করা গেলে সমাজে দারিদ্র্য কমবে, ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়বে এবং ইসলামের অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের ধারণা বাস্তবে প্রতিফলিত হবে।

—ইসলাম ও জীবন ডেস্ক