নিজস্ব প্রতিবেদক | আন্তর্জাতিক | দৈনিক আশুলিয়া
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কার্যকর হয়েছে নতুন শিশু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই আইনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের কর্মকাণ্ডের জন্য সরাসরি আইনগত দায়ভার দেওয়া হয়েছে অভিভাবকদের ওপর।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, এখন থেকে সন্তানরা কী ধরনের অনলাইন কনটেন্ট দেখছে, কোন অ্যাপ ব্যবহার করছে কিংবা কার সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ রাখছে—এসব বিষয় নিয়মিতভাবে তদারকি করা অভিভাবকদের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। শিশুদের বয়স উপযোগী ডিজিটাল সেবা নির্বাচন, অনুপযুক্ত ও ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষা এবং অনলাইনে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ প্রতিরোধ নিশ্চিত করাও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
আইনে শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ বা ব্যবহার করতে হলে অভিভাবকের স্পষ্ট সম্মতি নিতে হবে। একই সঙ্গে সেই সম্মতি যেকোনো সময় প্রত্যাহারের সুযোগও রাখা হয়েছে।
এছাড়া শিশুদের জন্য অনলাইন জুয়া, বাজিভিত্তিক গেম, ক্ষতিকর ডিজিটাল কার্যক্রম ও আসক্তিমূলক কনটেন্টে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইনের আওতা শুধু সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত যেসব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গেমিং বা ভিডিও শেয়ারিং সেবা আমিরাতের শিশুদের লক্ষ্য করে কার্যক্রম চালায়—তাদের ক্ষেত্রেও এই আইন প্রযোজ্য হবে।
আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য ‘শিশু ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল’ নামে একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই সংস্থা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, ডিজিটাল সেবা প্রদানকারী ও ইন্টারনেট অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় করে শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি নিরূপণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে।
আইনে শুধু অভিভাবক নয়, ডিজিটাল সেবা প্রদানকারীদের ওপরও কঠোর দায়বদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। বয়স যাচাই ব্যবস্থা, কনটেন্ট ফিল্টারিং, নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন ও বিপণনে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক সুস্থতা রক্ষা করা এবং তাদের জন্য একটি নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত ও বয়স উপযোগী ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা। শিশু সুরক্ষায় এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি যুগোপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

