ক্রীড়া প্রতিবেদক | দৈনিক আশুলিয়া
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সিদ্ধান্ত গ্রহণে ন্যায্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্বখ্যাত ক্রিকেট সাময়িকী উইজডেন। সাম্প্রতিক দুটি ঘটনায় আইসিসির অবস্থান বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন স্পষ্টভাবেই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড দেখা যাচ্ছে।
উইজডেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাতে সেখানে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। এরপর আইসিসি পাকিস্তানকে চাপ দিয়ে ভারতের সব ম্যাচ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে স্থানান্তর করে। পরবর্তীতে ভারত-পাকিস্তান সমঝোতার ভিত্তিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ভারতে না গিয়ে শ্রীলংকায় খেলতে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার সঙ্গে তুলনা টেনে উইজডেন বাংলাদেশ প্রসঙ্গ টেনে এনেছে। আইপিএল ঘিরে নিরাপত্তা ইস্যুতে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া এবং পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারত সফর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিসিবি তখন জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত সফর সম্ভব না হলে তারা শ্রীলংকায় খেলতে প্রস্তুত।
কিন্তু আইসিসি সাফ জানিয়ে দেয়—ভারতে খেলতেই হবে, ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। ২২ জানুয়ারি বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তারা ভারতে যেতে পারবে না। এর পরপরই আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে।
উইজডেনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,
“ভারত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিন মাস সময় পেয়েছে, অথচ বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে মাত্র এক মাস। সূচি ঘোষণার পর এমন চাপ তৈরি করাই প্রমাণ করে নীতিগত সমতা এখানে মানা হয়নি।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট। বিসিসিআই সরাসরি ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ শব্দটি ব্যবহার না করলেও ‘বর্তমান পরিস্থিতি’ বলে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে, যা রাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করে।
উইজডেন মনে করে, বাংলাদেশ খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, আত্মসম্মান ও নীতিগত অবস্থানকে অগ্রাধিকার দিলেও সেটিই শেষ পর্যন্ত তাদের বিপক্ষে গেছে। আইসিসির কাছে “না” বলাটা বাংলাদেশের জন্য সহজ হলেও ফল ভোগ করতে হয়েছে কঠিনভাবে।
অন্যদিকে, ভারতের অর্থনৈতিক শক্তি ও বিশাল বাজারের কারণে আইসিসি কার্যত তাদের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারে না। উইজডেনের ভাষায়—
“ভারত ছাড়া আইসিসির বড় টুর্নামেন্ট কার্যত অচল। এই বাস্তবতাই ভারতকে বাড়তি প্রভাবশালী করেছে।”
প্রতিবেদনটির উপসংহারে বলা হয়,
আইসিসি এখন আর নীতি ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় না, বরং অর্থনৈতিক বাস্তবতাই তাদের নীতিনির্ধারক। আর সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশের মতো ক্রিকেটপ্রেমী কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলোকেই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে।

