সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি | দৈনিক আশুলিয়া
সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের রেললাইনের পাশে বসবাসরত দুই জায়ের পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মাহমুদপুর ও মিরপুর মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত দুই দিনের সংঘর্ষে দুই মহল্লা রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রেললাইনের ধারে বসবাসরত নিরীহ মানুষের অন্তত শতাধিক বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেললাইনের পাশে বসবাসরত কাইয়ুমের স্ত্রী সনি এবং তার ছোট ভাই সিয়ামের স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত পরশুদিন বাড়ির কুকুরছানা ও বসতভিটার ঝাড়–সংক্রান্ত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই জায়ের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি দুই পরিবারের স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। কাইয়ুমের স্ত্রীর স্বজনরা মাহমুদপুর মহল্লা থেকে এবং সিয়ামের স্ত্রীর স্বজনরা মিরপুর মহল্লা থেকে ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হন। এতে দুই মহল্লার লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ রেললাইনের পাথর ও লাঠিসোটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে রেললাইনের ধারে বসবাসরত নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
কাইয়ুমের স্ত্রী সনি বলেন, “আমার দেবরের স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো। ওই দিন কুকুরছানা ও বসতভিটার ঝাড়–সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে আমার ঝা তার বাবার বাড়ির লোকজন নিয়ে এসে আমাকে মারধর করে। এরপর বিষয়টি আরও বড় আকার ধারণ করে এবং দুই মহল্লার লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে আমার স্বামী কাইয়ুম হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।”
মাহমুদপুর মহল্লার বাসিন্দা রিয়াল বলেন, “সংঘর্ষের কারণে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা মূলত নদীভাঙনের কারণে এখানে এসে বসবাস করছিলেন। দুই মহল্লার মাঝখানে থাকায় তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

