হেলাল শেখঃ ঢাকায় কোনো প্রকার ইটভাটা চলবে না শুধু মুখে বলা হয় অথচ ৫শতাধিক ইটভাটা চালাচ্ছে অবৈধ,সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরব ভূমিকায়। প্রতি বছরই গড়ে উঠছে নতুন নতুন ইটের ভাটা। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে ভাটাগুলো। এর বিপরীতে পরিবেশ অধিদপ্তর তাদের সামর্থ্য না থাকার কথা স্বীকার করলেও উপজেলা প্রশাসনের দাবি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ওইসব ভাটার বিরুদ্ধে।
ঢাকার উত্তরের দুই উপজেলা সাভার ও ধামরাই। রাজধানীর কাছে হওয়ায় এ অঞ্চলটি ভাটা মালিকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। সেই জনপ্রিয়তাই গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয়দের কাছে। সবুজ গ্রামগুলো রূপ নিয়েছে ধোঁয়ায়। দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের ঐতিহ্য আর চিরচেনা রূপ। নষ্ট হয়েছে ফসলি জমি আর কমেছে উৎপাদন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের ফসলি জমির ওপর গড়ে উঠেছে ৫টিরও অধিক ইটভাটা। কোনোটারই নেই বৈধতা। স্কুল-মসজিদ আর বসতবাড়ি ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে ভাটাগুলো। পাশেই মজুত করে রেখেছে পোড়ানোর জন্য কাটা গাছ। ধামরাই উপজেলায়ও একই চিত্র।
ঢাকার সাভার উপজেলার হিসাব বলছে, সাভার রাজস্বের আওতায় শতাধিক ইটভাটা রয়েছে আর আশুলিয়া রাজস্বের আওতায় রয়েছে অর্ধশতাধিক ভাটা। সাভার উপজেলার মোট ভাটার সংখ্যা দাঁড়ায় ২২৪টি এর মধ্যে অনেক ইটভাটা বন্ধ করেছে প্রশাসন। ধামরাই উপজেলায় ইটভাটার সংখ্যা আড়াই শতাধিকেরও বেশি। যেগুলোর বেশিরভাগেরই নেই কোনো অনুমোদন। প্রশাসনের সঙ্গে ম্যানেজ করেই চলছে সবকয়টি ইটভাটা। সম্প্রতি সাভার পৌর এলাকার পরিবেশ দূষণ করে অবৈধভাবে ইটভাটা তৈরি করে ইট প্রস্তুত করার অভিযোগে কিছু ইট ভাটায় অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
এসময় কর্ণফুলী ব্রিকসকে নগদ পাঁচ লাখ, এখলাছ ব্রিকসকে বিশ লাখ, মুধুমতি ব্রিকসকে পাঁচ লাখ ও ফিরোজ ব্রিকসকে পাঁচ লাখসহ মোট সর্বমোট ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
দেখা যায়,অভিযানের সময় ইটভাটার কিছু অংশ ভেঙে চলে যাওয়ার কয়েকদিন পর থেকে পুনরায় চালু হয় ভাটাগুলো। শুধু এ চারটি ভাটাই নয়, সাভার ও ধামরাইয়ের যেসব ভাটায় অভিযান হয় তার সব কয়টিতেই উৎপাদন থাকে অব্যাহত। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর।
ধামরাইয়ের এমবিসি ইট ভাটার ম্যানাজার কামাল হোসেন বলেন, সবভাটাই চলছে এক সূত্রে। মালিক সমিতি নির্ধারণ করে দেন কাকে কত দেবে। এটা মালিকদের ব্যাপার। উপজেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোক সবাই জানে বিষয়টি।
এত অভিযানের পরও চলছে সাভার আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের ইটভাটা এ কথার মাঝে থামিয়ে দেন পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আতাহার নামের আরেক ব্যক্তি। তিনি বলেন, সাংবাদিক-পুলিশ সবাই আসে। এসব নিয়ে বেশি কথা না বলাই ভালো। এমবিবি ইটভাটার এক কর্মকর্তা বলেন, ২৫০ ভাটার মালিকরা ৫০ হাজার করে সিজনের শুরুতে মালিকদের কাছ থেকে তুলে নেন। যা দিয়ে লোকাল প্রশাসন ম্যানেজ করা হয়।
ধামরাই ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, একটি টাকাও কাউকে দেওয়া হয় না। তাহলে কেমন করে চালাচ্ছেন এমন অবৈধ ভাটা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দেখা কইরেন আমার সঙ্গে। এই বলে গণমাধ্যম কর্মীর মুঠোফোনের সংযোগ বিছিন্ন করে দেন। বিভিন্ন ভাটা ঘুরে জানা যায়, আগে থেকেই অভিযানের খবর জানতে পারেন ভাটা মালিকরা। ২-১টিতে অভিযান চালালেও বাকিগুলো উৎপাদন চালান প্রকাশ্যে। অভিযান নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মাঝেও। তেমন একজন সুজন মিয়া। তিনি বলেন, অভিযানের সময় বড় বড় ড্রেজার নিয়ে আসেন কিন্তু ভাটার চিম্নি ঠিক রেখে,চুল্লির কিছু অংশ ভেঙে জরিমানার টাকা নিয়ে চলে যান প্রশাসন। যখনই চলে যান তখন থেকেই তা ঠিক করে পূণরায় উৎপাদন শুরু করেন ভাটা মালিকরা। এ যেন চোর পুলিশের খেলা।

