দৈনিক আশুলিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | অর্থনীতি ডেস্ক
প্রতিবেদক: মোঃ আল আমিন কাজী
ঢাকা: পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে দেশে খেজুরের আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও বাজারে এর দাম কমেনি। বরং খুচরা বাজারে বাড়তি দামে খেজুর কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্দর কার্যক্রমে বিঘ্ন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে খেজুর আমদানি হয়েছিল ৩ হাজার ১৮৪ মেট্রিক টন। চলতি ২০২৫ সালের একই সময়ে আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩০১ মেট্রিক টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৯২ শতাংশ বেশি।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত ১ নভেম্বর থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ৪৯ হাজার ৮০৭ টন খেজুর আমদানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৪ হাজার ৭১৬ টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ৫ হাজার ৯১ টন বা ১১ দশমিক ৪ শতাংশ।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে খেজুরের মোট চাহিদা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টন। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসেই প্রয়োজন হয় প্রায় ৬৫ হাজার টন। এ বছর চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার টন বেশি খেজুর আমদানি করা হয়েছে। রমজানে দাম সহনীয় রাখতে গত ২৩ ডিসেম্বর খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়, যা ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
বন্দরের জটিলতায় সরবরাহ ব্যাহত
আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের অস্থিরতা এবং শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে সময়মতো খেজুর খালাস করা সম্ভব হয়নি। এতে প্রায় ১৫ দিনের সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
বাদামতলী ফল আড়তের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মোল্লা ফ্রেশ ফোর্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আল-আমিন বলেন, “বন্দরের অস্থিরতার কারণে সময়মতো খেজুর খালাস করা যায়নি। ফলে বাজারে সাময়িক সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।”
খুচরা বাজারে বেশি দাম
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি দাবাস ও বরই খেজুর মানভেদে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য খুচরা বাজারে একই খেজুর আরও বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, তারা নিজেরা দাম বাড়াননি, বরং বেশি দামে কিনতে হওয়ায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
পর্যাপ্ত আমদানির পরও মূল্য নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “রমজান উপলক্ষে পর্যাপ্ত খেজুর আমদানি হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই।”
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শুল্ক কমানো এবং আমদানি বাড়ানোর পরও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বাজার ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে ভোক্তারা প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না।
— প্রতিবেদক, মোঃ আল আমিন কাজী, দৈনিক আশুলিয়া

