দৈনিক আশুলিয়া
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ইসলাম ও জীবন
ঢাকা: পবিত্র রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসে আল্লাহ তাআলা নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। তাই নিজের ইবাদতের পাশাপাশি অন্যের ইবাদতে সহযোগিতা করাও রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রোজাদারকে ইফতার করানো এমনই একটি মহৎ আমল, যা অল্প সামর্থ্যেও অসীম সওয়াব অর্জনের সুযোগ এনে দেয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো।” (সুরা মায়িদা: ২)। রোজাদারকে ইফতার করানো এই সহযোগিতার বাস্তব উদাহরণ, যা একজন মুমিনের জন্য বড় সওয়াবের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইফতার করানোর ফজিলত সম্পর্কে বলেন, “যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে, অথচ রোজাদারের সওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবে না।” (তিরমিজি: ৮০৭, ইবনে মাজাহ: ১৭৪৬)। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, একটি খেজুর, এক গ্লাস পানি কিংবা সামান্য খাবার দিয়েও একজন মুসলমান বিশাল সওয়াব অর্জন করতে পারেন।
কোরআনে নেককারদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, “তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিকে আহার করায়।” (সুরা আল-ইনসান: ৮)। রমজানে দরিদ্র ও অভাবী রোজাদারদের ইফতার করানো এই নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ এবং মানবিক দায়িত্বের অংশ।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, ইফতার আয়োজন সমাজে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করে। মসজিদ, মহল্লা বা পরিবারে একসঙ্গে ইফতার করার মাধ্যমে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় এবং ধনী-গরিবের বৈষম্য কমে আসে।
তবে ইফতার আয়োজন যেন প্রদর্শন বা অপচয়ের মাধ্যম না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।” (সুরা ইসরা: ২৭)। তাই আড়ম্বর নয়, বরং আন্তরিকতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টিই হওয়া উচিত ইফতার করানোর মূল উদ্দেশ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজান মাস মানুষের মধ্যে দান, সহানুভূতি ও তাকওয়ার চর্চা বাড়ানোর এক অনন্য সুযোগ। একটি ছোট ইফতার আয়োজনও একজন রোজাদারের কষ্ট লাঘব করতে পারে এবং দাতার জন্য অফুরন্ত সওয়াবের পথ খুলে দিতে পারে।
— ইসলাম ও জীবন ডেস্ক, দৈনিক আশুলিয়া

