ঢাকাTuesday , 17 March 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলামী জীবন
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. টক শো
  9. বিনোদন
  10. বিশেষ প্রতিবেদন
  11. রাজনীতি
  12. সারাদেশ
  13. হেলথ কর্নার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লাইলাতুল কদর: হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ এক মহিমান্বিত রজনী

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাহে রমজানের শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় রাত হলো লাইলাতুল কদর। ইসলাম ধর্মে এই রাতের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন, “নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মর্যাদাপূর্ণ কদরের রাতে। আর আপনি কী জানেন, কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রুহ তাদের প্রতিপালকের নির্দেশে সব বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে অবতীর্ণ হন। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে ফজর পর্যন্ত।” (সুরা কদর: ১-৫)

ইসলামি বর্ণনায় এসেছে, একদিন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বনি ইসরাইলের এক নেককার ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যিনি এক হাজার মাস রাতভর ইবাদত এবং দিনভর আল্লাহর পথে জিহাদে কাটিয়েছিলেন। এ ঘটনা শুনে সাহাবিরা বিস্মিত হন এবং নিজেদের ইবাদতকে তুলনামূলকভাবে কম মনে করে আফসোস প্রকাশ করেন।

তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবী (সা.) এবং উম্মতের জন্য বিশেষ রহমত হিসেবে সুরা কদর নাজিল করেন। এতে ঘোষণা করা হয়, উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য প্রতি বছর এমন একটি রাত থাকবে, যার ইবাদতের মর্যাদা হাজার মাসের চেয়েও বেশি। (তাফসিরে তাবারি, তাফসিরে মুজাহিদ)

মালেকি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম মালেক (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘মুয়াত্তা’-তে উল্লেখ করেছেন, উম্মতে মুহাম্মাদির আয়ু তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তাদের ইবাদতের সুযোগও সীমিত। কিন্তু লাইলাতুল কদরের মতো মহান নিয়ামত তাদের সেই সীমাবদ্ধতা পূরণ করে দেয়। এ এক রাতের ইবাদতের মাধ্যমে তারা অন্য উম্মতের দীর্ঘ সময়ের ইবাদতের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করতে পারে।

প্রখ্যাত মুফাসসির আল্লামা কাজি সানাউল্লাহ পানিপথী (রহ.) তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেন, লাইলাতুল কদর উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য বিশেষ এক নেয়ামত। অধিকাংশ আলেমের মতে, এ ধরনের বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ রাত অন্য কোনো উম্মতকে দেওয়া হয়নি।

হাদিসে বর্ণিত আছে, সাহাবি আবু জর (রা.) একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, লাইলাতুল কদরের মর্যাদা কি কেবল নবী-রসুলদের যুগেই সীমাবদ্ধ ছিল? জবাবে রাসুল (সা.) বলেন, “না, বরং এর ফজিলত কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে।” (নাসায়ি শরিফ)

বিশ্বস্ত হাদিস সূত্রে জানা যায়, রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অনেক আলেম বিশেষ করে ২৬ রমজানের দিবাগত ২৭ রমজানের রাতকে লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাব্য রাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

লাইলাতুল কদর পেলে কী দোয়া করা উচিত—এ সম্পর্কে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আমি যদি লাইলাতুল কদর পেয়ে যাই তাহলে কী দোয়া করব?” উত্তরে নবীজি (সা.) বলেন, “তুমি বলবে—
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।” (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ)

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, লাইলাতুল কদর আল্লাহর বিশেষ রহমত ও ক্ষমা লাভের এক অনন্য সুযোগ। তাই এ রাতে বেশি বেশি ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা উচিত।

—নিজস্ব প্রতিবেদক