ঢাকাFriday , 27 February 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলামী জীবন
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. টক শো
  9. বিনোদন
  10. বিশেষ প্রতিবেদন
  11. রাজনীতি
  12. সারাদেশ
  13. হেলথ কর্নার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রমজান: আত্মগঠন, তাকওয়া ও ক্ষমালাভের মহিমান্বিত মাস ইবাদত, সংযম ও কোরআনের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের আহ্বান

দৈনিক আশুলিয়া
February 27, 2026 11:02 am
Link Copied!

দৈনিক আশুলিয়া
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতিবেদক: মোঃ আল আমিন কাজী

ধর্ম ডেস্ক: রমজান একটি মহিমান্বিত মাস। মহান আল্লাহ তাআলা এই মাসকে অসংখ্য নিয়ামত ও বরকতের মাধ্যমে বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেছেন। তাই মুসলমানদের হৃদয়ে রমজান দখল করে আছে গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার স্থান। এটি রোজার মাস, ইবাদতের মৌসুম এবং আত্মশুদ্ধির সর্বোত্তম সময়।

কোরআন নাজিলের মাস

রমজান সেই মহান মাস, যে মাসে মানবজাতির পথনির্দেশনা হিসেবে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“রমজান মাস, যে মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত ও সৎপথের সুস্পষ্ট প্রমাণ ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।”
(সুরা বাকারা: ১৮৫)

এই মাসেই রয়েছে লাইলাতুল কদর—হাজার মাসের চেয়েও উত্তম এক রাত। আল্লাহ বলেন,
“নিশ্চয়ই আমি একে নাজিল করেছি কদরের রাতে।”
(সুরা কদর: ১)

আত্মসংযম ও আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ

রমজানে রোজাদার ব্যক্তি জিহ্বা, দৃষ্টি ও আচরণ সংযত রাখার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। এটি আত্মিক প্রশিক্ষণের এক অনন্য সময়, যা মানুষকে সারা বছর ইবাদতে অবিচল থাকতে প্রস্তুত করে। রোজা এমন এক ইবাদত, যার প্রতিদান আল্লাহ নিজেই নির্ধারণ করেন।

রাসুল (সা.) বলেছেন,
“যখন রমজান মাস আসে, তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।”
(সহিহ বুখারি: ৩২৭৭)

তাকওয়া অর্জনের শিক্ষা

রোজা শুধু উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য নয়; পূর্ববর্তী জাতিদের ওপরও এটি ফরজ ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।”
(সুরা বাকারা: ১৮৩)

তাকওয়া অর্জনই রমজানের মূল লক্ষ্য—যার মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহভীতির আলোয় জীবন পরিচালনা করতে শেখেন।

পাপমোচনের সুবর্ণ সুযোগ

রমজান পাপ ক্ষমার এক বিশেষ সুযোগ। রাসুল (সা.) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল, অথচ তার গুনাহ মাফ হওয়ার আগেই মাসটি চলে গেল, তার নাক ধুলায় ঘষে দেওয়া হোক।”
(তিরমিজি: ৩৫৪৫)

নফল ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য

এই মাসে নফল ইবাদত বৃদ্ধি পায়, যা বান্দাকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন,
“আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নিকটবর্তী হতে থাকে… সে যদি আমার কাছে কিছু চায়, আমি অবশ্যই তাকে তা দিই।”
(সহিহ বুখারি: ৬৫০২)

বিভেদ মিটিয়ে ঐক্যের আহ্বান

রমজান মুসলমানদের মধ্যে শত্রুতা ও বিরোধ দূর করারও উপযুক্ত সময়। ঐক্য, সহমর্মিতা ও ক্ষমার চর্চা এই মাসের অন্যতম শিক্ষা।

কোরআনের সঙ্গে নবায়ন সম্পর্ক

রমজান কোরআনের মাস। এ মাসে কোরআন তিলাওয়াত, অনুধাবন ও আমলের মাধ্যমে ঈমান দৃঢ় হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“মুমিন তো তারাই, যাদের সামনে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হলে তাদের অন্তর ভয়ে কেঁপে ওঠে; আর যখন তাদের কাছে তাঁর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়।”
(সুরা আনফাল: ২)

দান-সদকা ও মানবিকতার চর্চা

রমজানে দান-সদকা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা এবং সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ বলেন,
“নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদের যা রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে, যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।”
(সুরা ফাতির: ২৯)

সব মিলিয়ে রমজান মাস আত্মগঠন, সংযম, সহমর্মিতা ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের এক মহাসুযোগ। এই মাস আমাদের শেখায় কীভাবে নিজের ভেতরের অন্ধকার দূর করে তাকওয়ার আলোয় জীবন আলোকিত করা যায়।