ঢাকাSaturday , 28 February 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলামী জীবন
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. টক শো
  9. বিনোদন
  10. বিশেষ প্রতিবেদন
  11. রাজনীতি
  12. সারাদেশ
  13. হেলথ কর্নার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভাঙ্গায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন, হঠাৎ দাম পতনে হতাশ চাষিরা এক সপ্তাহে মণপ্রতি কমেছে প্রায় ৬০০-৮০০ টাকা

দৈনিক আশুলিয়া
February 28, 2026 9:53 am
Link Copied!

দৈনিক আশুলিয়া
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতিবেদক: মোঃ আল আমিন কাজী

ফরিদপুর: পেঁয়াজ চাষে দীর্ঘদিনের খ্যাতি রয়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার। বিশেষ করে মুড়িকাটা পেঁয়াজের জন্য এ অঞ্চল পরিচিত। চলতি মৌসুমে মুড়িকাটা পেঁয়াজের ফলন ভালো হলেও হঠাৎ দাম কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলায় ৪২ শতকে ১ বিঘা এবং ৪০ কেজিতে ১ মণ হিসাব করা হয়। বর্তমানে মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভরা মৌসুম চলছে। গত বছর পেঁয়াজের ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর চাষের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ভাঙ্গা বাজার এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের হাট হিসেবে পরিচিত। সপ্তাহের প্রতি সোমবার ও শুক্রবার এখানে হাট বসে। ভাঙ্গা ও নগরকান্দাসহ আশপাশের এলাকার কৃষকেরা এখানে পেঁয়াজ বিক্রি করেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরাও এ হাটে পেঁয়াজ কিনতে আসেন।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ভাঙ্গা হাটে প্রতি মণ (৪০ কেজি) পেঁয়াজ ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এতে চাষিরা বেশ সন্তুষ্ট ছিলেন। তবে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমে এখন প্রতি মণ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় নেমে এসেছে। হঠাৎ এই দরপতনে চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ভাঙ্গা পৌরসদরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চণ্ডিদাসদী মহল্লার কৃষক নূর আলম মুন্সী জানান, তিনি আড়াই বিঘা (১০৫ শতক) জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলেও দাম কমে যাওয়ায় তিনি হতাশ। “পেঁয়াজ চাষে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন দাম কমে যাওয়ায় লাভের আশা কমে গেছে,” বলেন তিনি।

অন্য কৃষক জাহাঙ্গীর মিয়া (৪৭) জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় বর্তমান বাজারদর তার জন্য উদ্বেগের কারণ। তিনি বলেন, “গুটি পেঁয়াজের দাম বেশি ছিল। এছাড়া দিনমজুরের মজুরি, সার ও কীটনাশকের দামও বেড়েছে। এখন যদি দাম না থাকে, তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।”

ভাঙ্গা পৌর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাফি-নূর হাসান জানান, এ বছর পৌর এলাকায় ৬৫ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। প্রতি ৪২ শতক জমিতে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার কেজি পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে। ফলন সন্তোষজনক হলেও বাজারদর কমে যাওয়ায় কৃষকেরা হতাশা প্রকাশ করছেন।

ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোল্লা আল মামুন বলেন, ভাঙ্গা উপজেলায় (১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত) এ বছর ৫২৫ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। অনেক এলাকায় প্রতি হেক্টরে গড়ে ২০ টন পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “মৌসুমের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। আমরা কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।”

ফলন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকের আগ্রহে ভাটা পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতি সর্বশেষ